২০২২ সালের ৩১ মে ভারতীয় সঙ্গীত দুনিয়ার এক কালো দিন। সেই কালরাত্রি আজও তাড়া করে বেড়ায় আপামর সঙ্গীতপ্রেমীকে। কলকাতায় গান গাইতে এসে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন কেকে (কৃষ্ণকুমার কুন্নথ)। তাঁর সেই আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক কেবল ভক্তদের নয়, তাঁর সবথেকে কাছের বন্ধু শানকেও প্রবল মানসিক ধাক্কা দিয়েছিল। সম্প্রতি মণীশ পলের পডকাস্টে এসে কেকে-র সঙ্গে কাটানো সময় এবং তাঁর মৃত্যুর পর নিজের আতঙ্কের দিনগুলো নিয়ে মুখ খুললেন শান।
শান জানান, কেকে-র সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল বন্ধুত্বের ছিল না, ছিল এক অটুট পেশাদার রসায়নও। শান বলেন, ‘আমি শ্রেয়া ঘোষাল, সুনিধি চৌহান বা অলকা ইয়াগনিকের চেয়েও বেশি গান কেকে-র সঙ্গে গেয়েছি। আমাদের অন্তত ২০টি ডুয়েট গান আছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সুপারহিট। আমরা একসাথে প্রচুর ভ্রমণ করেছি, শো করেছি।’ শানের আক্ষেপ, কেকে যখন চলে গেলেন, তখন তিনি তাঁর কেরিয়ারের মধ্যগগনে ছিলেন, তাঁর কণ্ঠ ছিল সবথেকে নিখুঁত অবস্থায়।
শান নিজেকে কেকে-র মতো তৈরি করতে চেয়েছিলেন। গায়ক জানান, কেকে কোনোদিন মদ্যপান বা ধূমপান করতেন না। তিনি কখনও রাত জেগে পার্টি করতেন না, বরং পরিবারকে সময় দিতে ভালোবাসতেন। নিজের শরীরের খুব যত্ন নিতেন; নিয়মিত সাঁতার কাটা ও যোগব্যায়াম ছিল তাঁর রুটিন। এমনকি তাঁর কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও ছিল না। টাকার জন্য কেকে কখনও টানা শো করতেন না। কলকাতায় সেই সময় পর পর শো ছিল কেবল সেগুলো একই শহরে ছিল বলে।

কেকে-র মৃত্যুর খবর যখন আসে, শান তা বিশ্বাসই করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা নন-স্টপ ট্রাভেল করি, শো-এর পর পার্টি করি, তারা কোনোদিন বিপদ নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু কেকে-র মতো ফিট মানুষের যখন এমনটা হলো, আমার পরিবার ভীষণ ঘাবড়ে যায়।’ শান জানান, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের দুশ্চিন্তা দূর করতে এবং নিজের মনের আশঙ্কায় তিনি তৎক্ষণাৎ নিজের শরীরের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা এবং এমআরআই (MRI) করিয়েছিলেন। যদি কেকে-র সাথে এমনটা হতে পারে, তবে যে কারো সাথে হতে পারে— এই ভয়টাই গ্রাস করেছিল শানকে।
শান আজও বিশ্বাস করেন, কেকে বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছেন। শানের কাছে কেকে ছিলেন সেই বিরল মানুষ, যিনি খ্যাতির আলোয় থেকেও একদম সাধারণ জীবনযাপন করতে পারতেন। বন্ধুর অভাব আজও প্রতিটি লাইভ শো-তে অনুভব করেন শান।