যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত করবে কি না—তা সময় হলেই ‘দেখা যাবে’।যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে, এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এমন সতর্কতার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করলেন।
সাম্প্রতিক মার্কিন হুমকিগুলোকে ‘নতুন কিছু নয়’ বলে উড়িয়ে দিয়ে রোববার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত যে তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার এটি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে।
খামেনির মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির আবহে খামেনি এই বক্তব্য প্রত্যাশিত ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি আশাবাদী যে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা হবে ওয়াশিংটনের।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যেগুলো ইরানের খুব কাছেই অবস্থান করছে, মাত্র কয়েকদিনের দূরত্বে। আমরা আশা করছি একটি চুক্তি হবে। যদি তা না হয়, তবে আমরা ঠিকই বুঝতে পারব যে তিনি (খামেনি) সঠিক ছিলেন কি না।’
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানের জন্য তেহরানের কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার মতে ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে। গত মাসে বিক্ষোভ তীব্র হলে তিনি ইরানের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সহায়তা আসছে’ জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও ওয়াশিংটনের ক্রমাগত হামলার হুমকির মধ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও একটি আলোচনার কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে লারিজানি বলেন, কৃত্রিম মিডিয়া যুদ্ধের ডামাডোলের বাইরেও আলোচনার একটি কাঠামো গঠনের কাজ এগোচ্ছে। তবে এই কাঠামো বা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।