জঙ্গলকে বাঁচাতে SC-তে যাওয়ার হুঁশিয়ারি সুভাষের

Spread the love

শান্তিনিকেতনের অন্যতম পর্যটন ক্ষেত্রে হল সোনাঝুরি এলাকা। এখানে বসে সোনাঝুরি হাট। এই হাটকে কেন্দ্র করে ভিড় জমে পর্যটকদের। পর্যটনকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠছে হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ। তবে এর জন্য নির্বিচারে জঙ্গলের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। আর সেই সঙ্গে জঞ্জালে ভরে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে জঙ্গলের পরিবেশ। তার ফলে যেমন জঙ্গলের পরিসর যেমন ছোট হয়ে যাচ্ছে তেমনি আবর্জনার স্তুপে ভরে উঠছে এই জঙ্গল। এবার সোনাঝুরি জঙ্গলকে বাঁচাতে পরবেশ আদালত এবং সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত।

সোমবার সোনাঝুরি জঙ্গলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকা পরিদর্শন করেন সুভাষ দত্ত। তাঁর অভিযোগ, বন দফতরের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে গাছ কেটে হোটেল, রেস্তোরাঁ গড়ে উঠছে। আর সেই কাঠ আসবাব পত্র অথবা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব বন্ধ না হলে আগামী দিনে জঙ্গলের একটি গাছও বাঁচানো যাবে না। এর ফলে এখানকার পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য এসব কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সোনাঝুরি জঙ্গল পরিদর্শন করার পরে দিন সংবাদ মাধ্যমকে সুভাষ যত বলেন, ‘সোনাঝুরির সোনা ঝরে গিয়েছে। এটা এখন জং ধরা লোহা। বন দফতরের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখানে বেআইনি কাজ করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, আগে সপ্তাহে একদিন এখানে হাট বসত। এখন রোজ বসছে। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমানে যে অবস্থা হয়তো আজকে জঙ্গল দেখা যাচ্ছে, তবে আগামী দিনে একটি গাছও দেখা যাবে না। আগামী প্রজন্ম হয়তো ইতিহাস পড়ে জানতে পারবে যে এখানে একটা জঙ্গল ছিল।

উল্লেখ্য, ২৫ বছর আগে থেকে শুরু হয় এই হাট। প্রথমে স্থানীয় কয়েকজন আদিবাসী শিল্পী এই জঙ্গলে তাঁদের শিল্পকর্মের পসরা সাজিয়ে বসতেন। সেটা ছিল সপ্তাহে একদিন। তবে গত একদশকের মধ্যে সেখানে হুহু করে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে এখানে ১৮০০ ব্যবসায়ী বসেন। রোজই হাট বসে এখানে। এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বন বিভাগ। আধিকারিকদের দাবি, জঙ্গলকে রক্ষা করার জন্য সব রকমের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *