বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চিত পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেও আশার আলো ভারতের বাণিজ্য মহলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা হতে পারে প্রজাতন্ত্র দিবসের পরেই। জানা গিয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের অতিথি হিসাবে ভারতে উপস্থিত থাকবেন ইইউ নেতৃত্ব। তারপরেই দুপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, এমনটাই খবর।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে আগামী ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। ২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবেও উপস্থিত থাকবেন তাঁরা। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে কুচকাওয়াজের আয়োজন, বিদেশ থেকে অতিথিদের আগমন ভারতের ক্ষেত্রে নতুন ঘটনা নয়। এবার সেই বিশেষ অনুষ্ঠানেই আসতে চলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। এর পাশাপাশি আগামী ২৭ জানুয়ারি, দু’পক্ষ যৌথ ভাবে ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন। ওই দিনই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি একেবারে চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, তিনদিনের এই ভারত সফরে কোস্টা এবং ভন ডের লিয়েন সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও। এছাড়াও প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনাও করবেন বিভিন্ন বিষয়ে।
কেন্দ্র সরকার সূত্রে খবর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টি অধ্যায় নিয়ে ইতিমধ্যেই দু’পক্ষ সহমত হয়েছে। বাকি অংশ নিয়ে আগামী কয়েকদিনে লাগাতার আলোচনা হবে। সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতরে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও। তবে এখনও চুক্তির সমস্ত শর্তাবলি চূড়ান্ত হয়নি। সেকারণেই সরকারিভাবে চুক্তি ঘোষণা করা যাচ্ছে না। তবে আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। ইইউ নেতৃত্ব-এর সফরের প্রাক্কালে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, নয়া দিল্লি ও ব্রাসেলস বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে এবং শীর্ষ বৈঠকের আগেই এটি সম্পন্ন করার উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘ যদি আমরা একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারি, তাহলে এটি ঘোষণা করা হতে পারে।’ কিন্তু কৃষিক্ষেত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলি এই চুক্তিতে থাকছে না বলেই জানা গিয়েছে। তবে উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তিসম্পদ, ওষুধের মতো ক্ষেত্রগুলিকে চুক্তির আওতায় আনা হতে পারে।
