জাল ওষুধ কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ

Spread the love

ওষুধের নানা সংস্থা লোভনীয় ছাড়ের অফার দিয়ে থাকে। অথচ এত ছাড় দিয়ে ওষুধ সংস্থা লাভ কেমন করে করছে?‌ এই প্রশ্ন কেউ খতিয়ে দেখেননি। এবার মৌচাকে ঢিল পড়তেই বেরিয়ে আসে ওইসব ওষুধের বেশিরভাগই জাল। এমন অভিযোগ উঠতেই তোলপাড় হয়ে গিয়েছে রাজ্য–রাজনীতি। আর এই জাল ওষুধের উৎসের খোঁজে দিল্লি, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ তিন বিজেপি শাসিত সরকারকে চিঠি দিয়ে সাহায্য চাইল নবান্ন। কারণ এই রাজ্যেগুলির একাধিক জায়গায় এমন কোম্পানির জাল ওষুধ তৈরির পর্যাপ্ত প্রমাণ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলার। তদন্তে নেমে সেসব তথ্য হাতে আসতেই চিঠি দিয়ে সবটা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এই ভেজাল ওষুধের বিষয়ে তথ্য যাচাই করে তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে এই চিঠি পেয়ে তিনটি রাজ্যও তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর। নবান্নের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বিস্তারিত সবকিছু উল্লেখ করা হয়েছে। জাল ওষুধ কাণ্ড নিয়ে রাজ‍্যগুলি নিজেরা তদন্ত করার পরে তা নিয়ে রিপোর্ট পাঠালে তারপর বাংলার সরকার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে সহজেই। নবান্ন সূত্রে খবর, বাংলার ড্রাগ কন্ট্রোল অভিযানে নেমে বহু ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে। ওইসব ভেজাল ওষুধ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং দিল্লি থেকে তা বাংলায় আনা হয়েছিল। অভিযুক্ত এক ডিস্ট্রিবিউটারকে ধরে সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত খাতায় লেখা ঠিকানা উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে হাওড়ার আমতা, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদার একাধিক জায়গা থেকে জাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছিল। জাল ওষুধের কারবারিকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের দেওয়া তথ্য নিয়ে আদালতের নির্দেশে জাল ওষুধের ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। যারা এই জাল ওষুধ তৈরি করে সরবরাহ করেছে তাদের সরকারি লাইসেন্স আছে কিনা সেটা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেখানে আসল না ভেজাল ওষুধ তৈরি হয় সেটা অনুসন্ধান করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ড্রাগ কন্ট্রোল প্যানটোপ্রাজল, ডক্সিসাইক্লিন গ্রুপের জাল ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে। জাল ওষুধের তদন্ত করতে গিয়ে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লির নাম সামনে আসে।

এছাড়া জাল ওষুধ তৈরি করার পর এই রাজ্যে তা ঢুকছিল বলে অভিযোগ। তাই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রিপোর্ট চেয়ে রাজ্যগুলির কাছে আবেদন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই রাজ‍্যগুলিকে চিঠি দিয়ে তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছে নবান্ন। ডক্টর রেড্ডি ল্যাব, অ্যাবট, সিপলার মতো নামি কোম্পানির ওষুধ জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাল ওষুধে ছেয়ে গিয়েছে বাজার। আর তা ধরেছে সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবরেটরি। তাদের হাতেই বিজেপি শাসিত এই তিন রাজ্যের নাম উঠে এসেছে। এসবের পিছনেও কি রাজনীতি রয়েছে?‌ উঠছে প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *