জ্ঞানেশের সঙ্গে বৈঠক ‘বয়কট’! কমিশনকে ‘জমিদারি আচরণ’ তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

‘আমাদের অপমান করা হয়েছে। এরকম মিথ্যাবাদী নির্বাচন কমিশন আমি কখনও দেখিনি।’ দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসে কমিশনকে একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। শুধু তাই নয়, তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে কমিশন।

রাজপথে অন্যরকম দৃশ্য

সোমবার শীতের দিল্লির রাজপথ সাক্ষী থাকল এক অন্যরকম দৃশ্যে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পরনে সাদা শাড়ি থাকলেও কাঁধ থেকে পা পর্যন্ত ঢেকেছে কালো চাদর। সঙ্গী দলীয় সাংসদ ও নেতা ও এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্যদের গায়েও একই চাদরের আবরণ। সব মিলিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক-সহ ১৪ জনের দল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী। ইস্যু ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রস্তাবিত সেই বৈঠক হয়েও হল না। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি জানালেন, ‘এরকম মিথ্যাবাদী কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহুদিন রাজনীতি করেছি, এরকম ঔদ্ধত্য আগে দেখিনি আমি।’

বৈঠক বয়কট

জীবিত হয়েও নির্বাচন কমিশনের নথিতে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত ৫০ জন ভোটারকে রাজধানীতে নিয়ে গিয়েছে শাসকদল। পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে পরিবারের কোনও না কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে-এমন অভিযোগ থাকা আরও ৫০ জনকেও দিল্লিতে আনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। ‘এসআইআর ক্ষতিগ্রস্ত’দের মধ্যে ১২ জনকে নিয়ে কমিশনের দফতরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এদিন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ আরও দুই নির্বাচন কমিশনার। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম, হয়রানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ তুলে ধরে কমিশনের কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠকে তাঁরা যোগ দেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বৈঠকের আগেই তাঁদের অসম্মান ও অপমান করা হয়েছে। নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অসম্মান, অপমান করা হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, কমিশনের বৈঠকে এমন একজনকে উপস্থিত করা হয়েছিল যিনি নির্বাচন কমিশনের কোনও আধিকারিক নন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘সীমা খান্না কে? উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের লোক।’

এসআইআর

মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ এত বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রশ্নই তোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। কমিশনের এই নীরবতা নিয়েই তাঁর যত আপত্তি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখানে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এআই দিয়ে সীমা খান্না এই কাজ করেছেন। আমি বলছি আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করুন, ওনার বাবা-মায়ের জন্ম তারিখ জানেন কী।’ লালকৃষ্ণ আদবাণীকেও কি এসআইআরের সম্মুখীন হতে হবে? সেই প্রশ্নও তুললেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

একই সঙ্গে কমিশনকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেন বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে?’ এদিন ফের কমিশনকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন কেন নির্বাচনের তিন মাস আগে এসআইআর করতে হল? অসমে কেন করা হল না? বৈঠকে ‘এসআইআর-এ ভুক্তভোগী’ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের শুরুতেই তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘যাঁরা হিন্দু-মুসলিম করেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন? এখানে দু’জন মুসলিম রয়েছেন। ক’জন হিন্দু?’ ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই মনে করছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে কোনও বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বাছাই করার যে অভিযোগ উঠছে- তাই সামনে আনতে চেয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *