সম্প্রতি উদ্বেগ বাড়িয়ে ৯০ টাকা পেরিয়েছিল এক ডলারের দাম। তলানি ছোঁয়া ভারতীয় মুদ্রাকে দুর্বলতা কাটিয়ে টেনে উপরে তুলতে অবিলম্বে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপ চায় সব মহল। অনেকেই প্রায় নিশ্চিত ছিলেন, শুক্রবার আরবিআই ঋণনীতিতে টাকার লাগাতার পতন আটকানোর কিছু না কিছু ব্যবস্থা থাকবে। তবে প্রত্যাশা পূরণ হল না। টাকার দামকে ঠিক কতটা নামতে দেওয়া হবে, সেই লক্ষ্য বাঁধল না আরবিআই। এই আবহে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, টাকা তার নিজস্ব পথ খুঁজে নিতে পারবে।
শনিবার নয়া দিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘টাকাকে তার নিজস্ব পথ খুঁজে বের করতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে বিরোধী দল থাকাকালীন, বিজেপি টাকার মুলা পতনকে ইস্যু হিসেবে তুলেছিল, কিন্তু সেই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আজকের থেকে আলাদা ছিল। নির্মলা সীতারমন বলেন, সেই সময় মুদ্রাস্ফীতি খুব বেশি ছিল, অর্থনীতি দুর্বল ছিল, এবং টাকার উপরও চাপ পড়ছিল। সেই পরিস্থিতি কারও জন্যই ভালো ছিল না। আজ ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী, তাই এই বিতর্ককে বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি-জিডিপির প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীল মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য টাকার পতন নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করার প্রয়োজন নেই।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, টাকার মূল্য নিয়ে যে কোনও বিতর্কের আগে ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে সরকার কৃত্রিমভাবে টাকাকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে বাজার-ভিত্তিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে। টাকার দাম বিশ্ব বাজার, বিদেশি বিনিয়োগ, মার্কিন ডলার এবং অপরিশোধিত তেলের দামের উপর নির্ভর করে। পাশাপাশি নির্মলা সীতারমন বলেছেন, আগামীদিনে সরকারের পরবর্তী সংস্কারের লক্ষ্য কাস্টমস ডিউটি সিস্টেমের পুনর্গঠন। তাঁর কথায়, ‘আমরা নিশ্চিত করেছি যে আয়কর আর কোনও কষ্টকর প্রক্রিয়া নয়। আগে বলা হতো আয়কর হার সমস্যার বিষয় নয়, বরং ‘হ্যাঁ, আমরা আরও কম হারের দাবি করছি’, কিন্তু সমস্যাটি ছিল ট্যাক্স প্রশাসন। প্রশাসনটি এতটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছিল যে এর জন্য ‘ট্যাক্স সন্ত্রাস’ কথাটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।’ তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে ‘ফেসলেস’ আয়কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা একটি সহজতর ও অনলাইন ভিত্তিক ব্যবস্থা। নির্মলা সীতারমন বলেন, ‘এখন একই ধরনের সুবিধাগুলো কাস্টমসেও আনা হবে।’ তিনি কাস্টমসের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা বলেন। এছাড়া, কাস্টমস সংক্রান্ত চোরাচালান এবং অবৈধ পণ্য চোরাচালানকে ‘এখনও গুরুতর সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। তবে গত দুই বছরে কাস্টমস ডিউটি ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
