রাজ্যে পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় প্রতিবারই নয়া চমক থাকে। বিনোদুনিয়া থেকে শুরু করে খেলার দুনিয়া-দুই ক্ষেত্র থেকেই প্রার্থী তালিকায় প্রতিবার কোনও না কোনও নতুন মুখ উঠে আসেন। যেমন একুশের বিধানসভা উঠে এসেছিল বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারির নাম। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু যে তাঁকে টিকিট দিয়েছিলেন তাই নয়, ভোটের পর তাঁকে রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীও করেন। কিন্তু ছাব্বিশের মহারণে তৃণমূল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই বড় ধাক্কা আসে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। এবার আর ঘাসফুল শিবির টিকিট দেয়নি রাজ্যের হেভিওয়েট নেতা তথা ক্রিকেটারকে। যা নিয়ে স্পষ্ট অভিমান ও হতাশা ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
হাওড়ার শিবপুর থেকে মনোজ তিওয়ারির পরিবর্তে এবার বালির বিধায়ক রানা চ্যাটার্জিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এতদিন বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, এবার একপ্রকার বিস্ফোরণ ঘটালেন মনোজ। অন্য দলে যোগদানের সম্ভাবনাও যে তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না, সেটা স্পষ্ট বোঝা গেল রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়। মনোজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘অন্য দল থেকে অফার রয়েছে। তবে এখনও কিছু ঠিক করিনি। স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ দল টিকিট না দেওয়ায় হতাশা রয়েছে কিনা, সে প্রশ্নের জবাবে বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক বলেন, ‘খারাপ লাগা তো থাকবেই। পাঁচ বছর আগে একদিন অনেকগুলো মিসড কল পাই। তখন আমি প্র্যাকটিস করছিলাম। তারপর ফোন করি সেই নম্বরে। আমাকে বলা হয়, দিদি কথা বলতে চায়। তখন দিদিকে যেভাবে বিরোধী শিবিরের বড় বড় নেতারা অপমান করছিল, সেটা আমার জেদ বাড়িয়ে দেয়।’
নিজের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছি। রাজনীতির মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছিলাম। আমার এলাকার মানুষ জানে, কতটা কাজ করেছি।’ গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রথীন চক্রবর্তীকে ৩২,৬০৩ ভোটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিধানসভায় পা রেখেছিলেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক। জয়ের পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে বড় চমক দিয়েছিলেন। সেই কঠিন লড়াই জয়ের পর এবার নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কিনা, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। মনোজ অবশ্য একা নন। এবার টিকিট পাননি রাজ্যের আরও ৩ বিদায়ী মন্ত্রী। তাজমুল হোসেন, বিপ্লব রায়চৌধুরী ও জোৎস্না মান্ডি। বাদ পড়েছেন ৭৪ জন বিধায়কও। যেমন, বেলেঘাটায় এবার টিকিট পাননি পরেশ পাল। জোড়সাঁকোয় নেই বিদায়ী বিধায়ক বিবেক গুপ্ত। বারাসতেও চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর বদলে সব্যসাচী দত্ত।
