মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা আপাতত থেমেছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন দফার আলোচনার ঠিক আগেই এই বিরতি। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে ফের ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-ইউক্রেন। এই বাস্তবতায় কূটনীতি ও সংঘাত দুই পথেই একসঙ্গে হাঁটছে মস্কো ও কিয়েভ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিয়মিত ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালায়নি রাশিয়া। দিনভর কোথাও বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গ্রিডে হামলার খবর আসেনি বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
তবে জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, সম্মুখযুদ্ধে কিছু এলাকায় গোলাবর্ষণ চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বসছে রাশিয়া–ইউক্রেন–মার্কিন ত্রিপক্ষীয় আলোচনা। গত সপ্তাহে দুই দেশই জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের কথা বললেও, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা নিয়ে এখনও মতভেদ আছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুরোধে পহেলা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কিয়েভে হামলা স্থগিত রাখা হয়েছিল। আর জেলেনস্কির দাবি, এই বিরতি শুরু হয় ৩০ জানুয়ারি থেকে, এক সপ্তাহের জন্য।
তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি শান্ত নয়। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক ডিটিইকের একটি কয়লা খনিতে হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন খনিশ্রমিক।

কোম্পানির সিইও ম্যাক্সিম টিমচেঙ্কো বলেন, কাজ শেষে ফেরার সময় কর্মীদের বহনকারী বাসে ড্রোন হামলা হয়। পরে আহতদের সহায়তায় ছুটে যাওয়া লোকজনের ওপর আরেকটি ড্রোন আঘাত হানে।
প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়ছে। জানুয়ারিতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ আমদানি আগের মাসের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে নিউ স্টার্ট পারমাণবিক অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়াতে প্রস্তুত রাশিয়া। যদিও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান বদলানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।