ট্রাম্প ‘বিশ্বাসঘাতক’! অভিযোগ ইরানি বিক্ষোভকারীদের

Spread the love

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে যারা রাস্তায় নেমে আসেন, তাদের অনেকের কাছেই সম্ভাব্য ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু পরে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মনে করছেন বিক্ষোভকারীরা। আর এই ক্ষোভের জন্ম হয়েছে ট্রাম্পের বক্তব্য ও তার কার্যকলাপের মধ্যকার ফারাক থেকে।

বিক্ষোভের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে ইরানি বিক্ষোভকারীদের উৎসাহ এবং সতর্কবার্তা দেন তেহরানকে। ‘সহায়তা আসছে’ এবং বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় আছে– ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে অনেক ইরানি বাস্তব সহায়তার প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখেছিলেন; এমনকি সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবেও।

বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামলে ইন্টারনেট বন্ধ, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনসহ বিভিন্ন উপায়ে তা মোকাবিলা করে ইরানি রাষ্ট্র। সংঘাতে বহু হতাহত এবং নিখোঁজের তথ্য উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। কিন্তু অনেক ইরানির কাছে এর দায় শুধু সরকারের ওপরই সীমাবদ্ধ নয়।

এই প্রেক্ষাপটে, কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে বহু কর্মী সরিয়ে নেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনাকেও ব্যাপকভাবে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন অনেকে। এরপরই অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের নেতৃত্ব তাকে আশ্বাস দিয়েছে যে হত্যা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে যারা এই বিশ্বাসে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে রাস্তায় নেমেছিলেন যে ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপ করবে, তাদের কাছে এই ঘোষণা ছিল এক বড় ধাক্কা।

তেহরানের এক ব্যবসায়ী টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, 

এই ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য ট্রাম্প দায়ী। ট্রাম্পের সেই পোস্ট দেখেই অনেক মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র লকড অ্যান্ড লোডেড (হামলার জন্য প্রস্তুত)।

যুক্তরাষ্ট্র ইরান সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি করেছে এবং এর মধ্য দিয়ে ইরানিদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।

দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়া একজন ইরানি বলেন, 

তিনি (ট্রাম্প) যখন বললেন যে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে আর কোনো হত্যা বা মৃত্যুদণ্ড হবে না, তখন সবাই হতবাক হয়ে যায়। সবাই ক্ষুব্ধ ছিল; তারা শুধু বলছিল—ট্রাম্প আমাদের কামানের গোলা হিসেবে ব্যবহার করেছে। ইরানিরা মনে করে, তাদের বোকা বানানো হয়েছে, প্রতারিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, যারা সরাসরি ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাদের জন্য মানসিক ধাক্কা ছিল আরও তীব্র। তেহরানের এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, ‘ট্রাম্প সবচেয়ে খারাপ। সে সব গুলিয়ে ফেলেছে। আমাদের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নিয়েছে।’

তেহরানের আরেক বাসিন্দা টাইমকে বলেন, ‘সে (ট্রাম্প) শুধু বাইরে থেকেই কাপুরুষ নয়, ভেতরেও কাপুরুষ।’ 

তাদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য এমন প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, যা সরাসরি মানুষকে বিক্ষোভে নামার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেই সমর্থন হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়। কেউ কেউ মনে করেন, গোপনে কোনো সমঝোতা হয়েছে। অন্যদের চোখে এটি নিছক উদাসীনতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *