সদ্য আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। সেখানে কাঠগড়ায় রয়েছেন ধৃত জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি। তিনি আল ফালাহ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান। তাঁর ট্রাস্টের বিরুদ্ধেও চার্জশিট পেশ হয়। অ্যাটাচ হয়েছে প্রায় ১৪০ কোটির সম্পত্তি। এদিকে, ইডির চার্জশিট পেশের পর থেকেই আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হত,’ভুয়ো রোগী’দের। এমনই তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে রিপোর্টে। বলা হচ্ছে, ভুয়ো রোগী ভাড়া করা হত হাসপাতালের তরফে। তাঁদের দিয়ে এমন একটি দৃশ্য তৈরি করা হত, যাতে দেখে মনে হয় যে, রোগীতে ভরে রয়েছে আলফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। আর এই ঘটনা ঘটানো হত, যখন হাসপাতালে পরিদর্শন চলত, তখন। এক্ষেত্রে হাসপাতালের আইটি দফতরের স্টাফ ফরদিন বেগের বয়ান উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, ভুয়ো রোগীদের বিস্তারিত রেকর্ড এবং অর্থ প্রদানের বিবরণ আল ফালাহর জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরান আলম দেখভাল করছিলেন। তাতে নজর রাখতেন আল ফালার প্রধান সিদ্দিকি। আল ফালাহর উপাচার্য ভূপিন্দর কৌরের বয়ানও তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন,’তিনি (কৌর) নিশ্চিত করেছেন যে, যেসব ডাক্তারদের পরবর্তীতে সন্ত্রাস-সম্পর্কিত কার্যকলাপে জড়িত থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে জেনারেল মেডিসিনের জুনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ মুজাম্মিল, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ফার্মাকোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ শাহীন এবং ২০২৪ সালের মে থেকে জেনারেল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ উমর নবি। তাদের নিয়োগ করা হয়েছিল তাঁর (কৌর) মেয়াদকালে।’ এই নিয়োগের সময়ের এক বেনিয়মও বেরিয়ে আসে তদন্তে। কৌর জানান, আল ফালাহতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জাওয়াদ সিদ্দিকির অনুমোদনই শেষ কথা। তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত উমর নবি, সন্ত্রাসের ‘ডক্টর্স মডিউলের’ বাকিদের নিয়োগের সময় কোনও পুলিশি যাচাই পর্ব সংগঠিত হয়নি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবাইটে ন্যাক ও ইউজিসির স্বীকৃতি ঘিরেও ভুয়ো বার্তা দিয়েছে আল ফালাহ বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ন্যাক ও ইউজিসি পদক্ষেপও করেছে।

এছাড়াও রয়েছে এক বিস্ফোরক অভিযোগ। ইডি দাবি করেছে যে জাতীয় মেডিকেল কমিশনের এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনের সময়, তাদের সন্দেহের নজর এড়াতে বহু এমন অধ্যাপকদের নাম দেখানো হত, যাঁদের কেবল ‘কাগজে’ই নিয়োগ করা হয়েছে, আসলে তাঁরা কর্মরতই নন।’কাগজে’ -র বন্দোবস্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে একটি অনুশীলন ছিল, যেখানে নিয়ন্ত্রক সম্মতি পূরণের জন্য অনুষদদের নিয়মিত কর্মচারী হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হত। বিভিন্ন বিভাগের ৬০ জনেরও বেশি ডাক্তার, এমনকি ভিসি কৌরকেও ‘কাগজ’র তালিকায় পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করছে বিস্ফোরক রিপোর্ট।