ফের টলিপাড়ায় ভাঙনের সুর। বিয়ে ভাঙল অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী পৃথা চক্রবর্তীর। শনিবার পৃথা নিজেই সেই খবর ভাগ করে নিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। বছরখানেক আগে একত্রে দুজনে বাগ নিয়েছিলেন ইস্মার্ট জোড়িতে। সেখানে দুজনের কেমিস্ট্রি মনেও ধরে সকলের। তবে হঠাৎ এই ঘোষণায় রীতিমতো আশাহত তাঁদের ভক্তরা।
পৃথা এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, ‘আমরা আর একসঙ্গে নেই। আমি আর সুদীপ মুখোপাধ্যায় আইনি ভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ নিলাম। তবে আমরা সারাজীবন বন্ধু থাকব।’
ভালোবেসে একে-অপরের হাত ধরেছিলেন তাঁরা। দুজনের বয়সের লম্বা ফারাক থাকা সত্ত্বেও, সেভাবে ত ছাপ ফেলতে পারেনি সম্পর্কে। সুদীপ-পৃথার বয়সের ফারাক প্রায় ২৫ বছরের। জানা যায়, পৃথার তরফ থেকেই নাকি এসেছিল প্রথম প্রেমের প্রস্তাব।
নাচে পারদর্শী পৃথা চক্রবর্তীকে এক অনুষ্ঠানে প্রথম দেখেছিলেন সুদীপ। পটলচেরা চোখ দেখে হয়েছিলেন আকৃষ্ট। আর এদিকে, পৃথা নিজেই পাঠাল ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ফেসবুকে। দেখেই চিনতে পারেন। ততদিনে দামিনীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। ব্যস, আর কী! শুরু হয়ে যায় আরেক রূপকথার সফর।তাঁদের দুই ছেলেও রয়েছে– ঋদ্ধি আর বালি।
এর আগে দামিণী বেণি বসু-র সঙ্গে বিবাহবন্ধনে ছিলেন সুদীপ। সেই বিয়ে থেকে একটি কন্য়া সন্তানও ছিল তাঁর। সেই সময়ও দুজনে ৮ বছরেরদাম্পত্য ভেঙেবেরিয়ে আসেন। মেয়ে চিনির বয়স ছিল মাত্র ৭। ২০১৩ সালে দাম্পত্য সম্পর্কে ইতি টেনেছিলেন বেণী ও সুদীপ। আর তার দু বছর পর, ২০১৫ সালে বিয়ে করেন সুদীপ ও পৃথা। তবে বিয়ের বয়স ১০ হওয়ার আগেই, তাতে ছেদ পড়ল।
চিরসখা-য় যোগ দেওয়ার পরপর, হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর আর পৃথার দাম্পত্য নিয়ে কথা বলেছিলেন সুদীপ অকপটে। বিয়ের ১০ বছরের জন্মদিন নিয়ে জানিয়েছিলেন, ‘বিবাহবার্ষিকীর দিন আমরা নানা কারণে একসঙ্গে থাকতে না পারলেও। মধ্যরাতে আমরা নিজেদের মতো করে আমাদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছি। তবে আমরা প্রতিটা দিনের প্রতিটা মুহূর্ত উদযাপন করি। আমাদের ১০ বছরের বিবাহিত জীবন। সম্পর্ক আছি প্রায় ১৩ বছর ধরে। ফলে আমরা একে অপরকে খুব ভালো ভাবে চিনেছি। প্রথম থেকেই আমাদের বন্ধুত্বটা খুব গভীর ছিল।’
প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত! যদিও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার তরফ থেকে সুদীপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। বেজে গিয়েছে ফোন।