তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে স্পিকার বিড়লা! ভারত-বাংলাদেশে নয়া অধ্যায়?

Spread the love

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন। বিপুল জয়লাভের পর এবার পদ্মপাড়ে নতুন সরকার গড়তে চলেছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তবে, একই দিনে মুম্বইতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। তাই, তাঁর পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি যোগ দেবেন তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। এমনটাই জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

১৩টি দেশকে আমন্ত্রণ ও বিদেশ মন্ত্রক

বাংলাদেশের ক্যাবিনেট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, নব নির্বাচিত সাংসদরা শপথ নেবেন আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। খবর অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠানে ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এখনও পর্যন্ত এই তালিকায় রয়েছে-ভারত, চিন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মলদ্বীপ ও ভুটান। তবে মঙ্গলবারই দেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ইন্ডিয়া-এআই ইম্প্যাক্ট সামিট। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা দিল্লিতে আসছেন। তাদের অন্যতম হল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর যুবরাজ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। একই দিনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। ‌

এই পরিস্থিতিতে দিল্লি থেকে ঢাকা গিয়ে আবার রাজধানীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে খুব সহজ হবে না। এই আবহে রবিবার এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে , ‘লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও স্থায়ী বন্ধুত্বের উপর জোর দেয়, যা আমাদের দুই দেশকে আবদ্ধ করে এমন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের দৃঢ় অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে।’ আরও বলা হয়েছে, ‘একটি অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার দ্বারা ঐক্যবদ্ধ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকারে বাংলাদেশের উত্তরণকে স্বাগত জানায়, যার দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ জনগণের বিপুল সমর্থন পেয়েছে।’

এর আগে বিশাল জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাঁকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং ভারত উভয় দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যার উত্তরে বিএনপি লেখে, ‘আপনাকে ধন্যবাদ। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আপনার সদয় স্বীকৃতির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং আমাদের অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি দ্বারা পরিচালিত আমাদের বহুমুখী সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আমরা ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে জড়িত হওয়ার জন্য উন্মুখ।’

কোথায় হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান?

এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে, তারিক রহমানের শপথ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতির অফিস বঙ্গভবনে নয়, হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার অস্থায়ী মঞ্চে। দু’দর্শক পর বিএনপি বাংলাদেশে সরকার গড়তে চলেছে। স্বভাবতই তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বাড়তি উৎসাহ উন্মাদনা রয়েছে সাধারণ মানুষ এবং দলটির নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে। সম্ভবত এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের বড় আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে অনেক বেশি অতিথিকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো যায়। বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে বিকেল ৪টেয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *