‘বাংলায় বিজেপির সরকার হলেই তৃণমূলের কালো দুর্নীতি বন্ধ হবে।’ মালদহের সভা থেকে হুঙ্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’-বঙ্গ গেরুয়া শিবিরের জন্য নির্বাচনের স্লোগানও বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাকে ঘিরে থাকা সব রাজ্যেই বিজেপির সরকার সুশাসন দিচ্ছে। সেই সঙ্গে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় চলা সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুললেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলা জয়ে মরিয়া বিজেপি
মালদহে দেশের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের শিলন্যাসের পর পরই রাজনৈতিক সভা থেকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদহের সভা থেকে তিনি বলেন, বিকশিত ভারত তৈরি করতে পূর্ব ভারতের উন্নয়ন খুবই জরুরি। দশকের পর দশক ঘৃনার রাজনীতির কারবারিরা পূর্ব ভারতকে দখল কব্জায় রেখেছিল। বিজেপি পূর্ব ভারতের এই রাজ্যগুলি এই ঘৃনার রাজনীতির কারবারিদের কবল থেকে মুক্ত করেছে। পূর্ব ভারতের মানুষ বিজেপির উপরে আস্থা রেখেছে। ওড়িশায় প্রথমবার বিজেপির সরকার হয়েছে। ত্রিপুরা, অসমেও কয়েক বছর ধরে বিজেপির সরকার রয়েছে। কিছু দিন আগে বিহারে ফের বিজেপির সরকার নির্বাচিত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলার চারপাশে সুশাসনের সরকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এবার বাংলায় সুশাসনের পালা। তাই আমি বিহারে জয়ের পরই বলেছিলাম মা গঙ্গার আশীর্বাদে বাংলাতেও উন্নয়নের গঙ্গা বইবে। বিজেপি এই কাজ করেই ছাড়বে। আমার সঙ্গে আপনারা সঙ্কল্প নিন, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, ‘যে রাজ্যগুলিতে বিজেপির জয় অসম্ভব বলেই মনে করা হত, সেখানেও এখন বিজেপি নির্বাচনে সাফল্য পাচ্ছে।’ উদাহরণ হিসেবে কেরলের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এবার বাংলাতেও পালাবদল হয়ে পদ্ম ফুটবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি সরকার গোটা দেশে সুশাসন এবং উন্নয়নের মডেল তৈরি করেছে। গোটা দেশের মানুষ বিজেপি-কে আশীর্বাদ করছে। গতকালই মহারাষ্ট্রের শহরাঞ্চলে পুরভোটে বিজেপি ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। বিএমসি-তে রেকর্ড জয় পেয়েছে বিজেপি। কেরলের তিরুঅনন্তপুরমও কিছুদিন আগে প্রথমবার বিজেপির মেয়র পেয়েছে। যেসব জায়গায় বিজেপি কোনওদিন জিতবে বলে ভাবা যেত না, সেখানেও বিজেপি জয় পাচ্ছে। এতেই প্রমাণিত দেশের তরুণ প্রজন্ম, জেন জি বিজেপির উপরে ভরসা রাখছে। বিজেপিকে নিয়ে যে ভুল প্রচার চালানো হত, তা দূর হচ্ছে। আপনাদের দেখে আমিও নিশ্চিত, এবার বাংলার মানুষও বিজেপিকে জয়ী করবে। পশ্চিমবঙ্গের দ্রুত উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।’

প্রধানমন্ত্রীর নজরে বেলডাঙা-অনুপ্রবেশ
শনিবার মালদহের জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘মালদহ ও মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে মহিলা সাংবাদিকও সুরক্ষিত নয়।’ এদিন বেলডাঙার ঘটনায় মহিলা সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশকারীরা দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। এমনকী মহিলা সাংবাদিকরা পর্যন্ত সুরক্ষিত নন, তাঁদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। বাংলায় বিজেপি সরকার এলে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। শুধু তাই নয় বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’
অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গে এদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির উদাহরণ টানেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন, তৃণমূল সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে এই অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিচ্ছে, যার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথায়, ‘বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল অনুপ্রবেশ। বিশ্বের সব উন্নয়নশীল দেশেও অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া জরুরি। এক এক করে বের করে দেওয়া উচিত। কিন্তু তৃণমূল থাকলে সেটা সম্ভব নয়। আপনাদের জমির সুরক্ষা দেবে না। তৃণমূল নেতারা বছরে পর বছর অনুপ্রবেশকারীদের এখানে বসাচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীরা কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে, টাকা নিচ্ছে, অত্যাচার করছে, দেশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’ মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই অনুপ্রবেশকারীরাই মা-বোনেদের হেনস্থা করছে এবং একের পর এক অপরাধ ঘটাচ্ছে। এর প্রভাব শুধু সমাজে সীমাবদ্ধ নেই, জাতীয় নিরাপত্তাও এর ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি হওয়ার পিছনেও অনুপ্রবেশ একটি বড় কারণ বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।