থাইল্যান্ডে আটক করা হল গোয়া নাইটক্লাবের লুথরা ‘ব্রাদার্স’-কে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টির সঙ্গে অবহিত আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গোয়ার অভিশপ্ত নাইটক্লাবের অন্যতম দুই মালিক গৌরব এবং সৌরভ লুথরাকে আটক করা হয়েছে থাইল্যান্ডে। তাদের ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকার বা গোয়া সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তারইমধ্যে সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লুথরা ‘ব্রাদার্স’-দের পাসপোর্ট সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের ৬৭এ ধারার আওতায় যে কোনও কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসার বা কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার পাসপোর্ট সাসপেন্ড করে দিতে পারেন।
এমনিতে ইতিমধ্যে গোয়া পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক নীলেশ রানে জানিয়েছেন, পুলিশের তদন্তের উঠে এসেছে ৭ ডিসেম্বর (ইংরেজি মতে ৭ ডিসেম্বর) রাত ১ টা ১৭ মিনিটে মেক মাইট্রিপ (এমএমটি) ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম থেকে থাইল্যান্ডের টিকিট কেটেছিল। যখন গোয়া পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে লড়াই করছিল, আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করছিল, সেইসময় ‘লুথরা ব্রাদার্স’-রা দেশ ছেড়ে পালানোর ছক কষছিল।
সেইসঙ্গে সরকার এবং প্রশাসনের তরফে ‘লুথরা ব্রাদার্স’-রা বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা খারিজ করে দিয়েছে পুলিশ। গোয়া পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘লুথরা ব্রাদার্স’-কে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা সম্পর্ণ ভুয়ো। সকাল ছ’টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশ এবং অন্যান্য এজেন্সি। আর অভিযুক্তরা ভোর সাড়ে পাঁচটার বিমানে পালিয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে জানার পরই তারা পালিয়ে গিয়েছিল।তথ্য অনুযায়ী, ‘লুথরা ব্রাদার্স’-রা ইন্ডিগোর বিমানে থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপে উড়ে গিয়েছিল। গ্রেফতারি এড়াতে আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছে। আদালত গোয়া কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়েছে এবং শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত করেছে। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ব্লু কর্নার নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ভাইদের আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি করে অতিরিক্ত দায়রা জজ বন্দনা গোয়া পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছেন এবং বিষয়টি পরবর্তী শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার স্থগিত করেছেন।
