দেউলবাড়িতে দক্ষিণরায়ের আতঙ্ক

Spread the love

কুলতলির মৈপীঠ কিছুদিন আগেও কেঁপে উঠেছিল দক্ষিণরায়ের আতঙ্কে। এবার সেই আতঙ্ক দেখা দিল দেউলবাড়িতে। শনিবার বেশি রাতে বাঘের পায়ের ছাপ চোখে পড়তেই আতঙ্কে কাঁপতে শুরু করল গ্রামবাসীরা। যার জেরে এখনও সেখানে গৃহবন্দি অবস্থা গ্রামবাসীদের। মোট ৯ বার বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায় কুলতলির মৈপীঠে। এবার সেই চেনা আতঙ্ক দেখা গেল, পড়শি দেউলবাড়ি গ্রামে। বাঘের পায়ের ছাপের দেখা মিলতেই সকলের ঘুম উড়ে গিয়েছে। এই বুঝি ঘাড়ে এসে পড়ল থাবা এমন আতঙ্কে রাত জাগল দেউলবাড়ি।

এদিকে মাতলা এবং মাকড়ি নদীর সংযোগস্থল পার করে বাঘটি গ্রামের ধান খেতে ঢুকছে এমন দৃশ্যই নিজের চোখে দেখেন এক মৎস্যজীবী। নিজের চোখে দেখা ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে দেন গ্রামে। আর তখন থেকেই আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। গ্রামবাসীরাই আর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করেন। খবর দেওয়া হয় বনদফতর এবং পুলিশে। বাঘটিকে ধরতে বন দফতর এখন ওই এলাকায় তিনটি খাঁচা পেতেছে। ওই এলাকায় বেড়েছে তুমুল নজরদারি। কিন্তু দক্ষিণরায় পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। বরং সে গা ঢাকা দিয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে খবর, রাতে স্থানীয় মৎস্যজীবী যখন দেখেন, মাকড়ি নদী পেরিয়ে গ্রামের ধানখেতে যাচ্ছে বাঘ তখন তাঁর আত্মারাম খাঁচা হয়ে যায়। আর এই কথা তিনি গ্রামবাসীদের জানালে, তাঁরা গিয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে সকলে লাঠি নিয়ে রাত পাহারা দেন। গ্রামবাসীরাই বন দফতর এবং কুলতলি থানায় খবর দেন। এখন আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গ্রামবাসীদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। বন দফতর বাঘ ধরতে রাতেই জাল পেতেছে। সুতরাং সব মিলিয়ে এক স্নায়ুর চাপ চলছে।

এছাড়া রাতে পাতা বন দফতরের জালে ধরা পড়েনি দক্ষিণরায়। আবার তিনটি খাঁচার একটিতেও বন্দি হয়নি। আর এটাতেই চাপ বাড়তে শুরু করেছে গ্রামবাসীদের। আজ রবিবার সকালে অনেকে খোঁজ নিতে আসেন বন দফতরের কাছে। কিন্তু বাঘ ধরা পড়েনি শুনে হতাশ হয়ে তাঁরা ফিরে যান। বন দফতরের কর্মীরাও এখন ভাবতে শুরু করেছে, বাঘটি গেল কোথায়? তার মধ্যেই স্থানীয় যুবক তরুণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‌সন্ধ্যায় কয়েকজনের চিৎকার শুনে ছুটে যাই। দেখি বাঘ নদীপথ পেরিয়ে ধানের খেতে ঢুকে পড়েছে। আতঙ্কে আছি। বন দফতরে খবর দেওয়ায় সেখানে কর্মীরা রয়েছেন। আমরা পাহারা দিয়েছি। কিন্তু বাঘ অধরা।’‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *