বৃহস্পতিবার সকালে প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে দেশজুড়ে বিমান পরিষেবায় সাময়িক বিপর্যয় দেখা দেয়। বহুল ব্যবহৃত এয়ারলাইন রিজার্ভেশন ও ডিপার্চার কন্ট্রোল সিস্টেম নেভিটেয়ারে বিভ্রাটের কারণে ভারতের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও একাধিক এয়ারলাইনস প্রভাবিত হয়েছে।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এয়ার ইন্ডিয়া বাদে প্রায় সব বিমনা সংস্থাই এই সমস্যার মুখে পড়ে। তাদের পরিষেবা ব্যাহত হয়। তাঁর কথায়, ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, আকাশা এয়ার এবং স্পাইসজেটে সকাল ৬টা ৪৫ থেকে ৭টা ২৮ পর্যন্ত এই সমস্যা দেখা দেয়। সাময়িকভাবে ঠিক হলেও ফের পরে ৮টা ১০ থেকে ৮টা ২৫ পর্যন্ত এই বিভ্রাট চলে। যার ফলে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট-সহ একাধিক বিমানবন্দরে চেক-ইন ও বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় দেরির কারণে যাত্রীদের দীর্ঘসময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়।’ সার্ভার ডাউন থাকার ফলে ম্যানুয়ালি অনেক কাজ করতে হয়। যেই কারণে চেক ইন কাউন্টারে লম্বা লাইন পড়ে যায়।
এদিকে, রাজধানীতে এআই সামিটের কারণে দিল্লি ও আশপাশের আকাশসীমায় নোটাম জারি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উড়ান ওঠানামায় বিধিনিষেধ থাকায় অপারেশনাল চাপ বৃদ্ধি পায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরতে শুরু করে। এই সমস্যার জেরে ফ্লাইট মিস করার আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন যাত্রীরা। জানা গেছে, এই সময়ে এয়ারলাইনগুলি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ চালায় এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিছু ফ্লাইট দেরিতে ছাড়লেও কোনও বাতিলের ঘটনা ঘটেনি। এদিনের ঘটনাটি গত বছর নভেম্বরে হওয়া বিমান বিপর্যয়ের স্মৃতি উসকে দেয়। দিল্লি বিমানবন্দরের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে ৮০০ টিরও বেশি ফ্লাইটের সময় পিছিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ভারতের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হলো দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখান থেকে প্রতিদিন ১,৫০০টিরও বেশি বিমান ওঠানামা করে এবং মুম্বই বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ বিমান চলাচল চলাচল করে।

নেভিটেয়ার কী?
অ্যামেদাস আইটি গ্রুপ-এর অধীনস্থ নেভিটেয়ার একটি ক্লাউড-ভিত্তিক প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম, যার নাম নিউ স্কাইস। এটি মূলত লো-কস্ট ও হাইব্রিড এয়ারলাইনগুলির জন্য তৈরি। এই সিস্টেমের মাধ্যমে রিজার্ভেশন, টিকিটিং, চেক-ইন, বোর্ডিং, ব্যাগেজ ট্র্যাকিং – সবকিছুই এক প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হয়। এছাড়া, যাত্রীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্লাইট পরিবর্তন বা রিবুক করার সুবিধাও দেয় এই প্রযুক্তি।