মুম্বইয়ের কাফে প্যারেড এলাকার এক ২০ বছরের মূক-বধির তরুণীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এল ভয়াবহ সত্য। ভ্রূণের জৈবিক তথা বিজ্ঞানসম্মত বাবা হলেন তরুণীর নিজের বাবা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। নির্যাতিতা তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, এক ব্যক্তিকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৭ বছরের এক কিশোরকেও আটক করে পুলিশ। ঘটনায় আর কে কে জড়িত ছিল, তাও খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। আর অবশেষে ফাঁস হয় ধর্ষণের মূল অভিযুক্তের নাম। এই ঘটনার তদন্তে ১৭ জন অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সেই তালিকায় ছিলেন তরুণীর বাবাও। পরীক্ষায় তরুণীর ভ্রুণের সঙ্গে তাঁর বাবার ডিএনএ মিলে যায়। এরপরই ধর্ষক বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আচমকাই পেটে যন্ত্রণা শুরু হয় ওই তরুণীর। ওই তরুণী তাঁর ঠাকুমার কাছে ইশারায় জানান, পেটে অস্বস্তি হচ্ছে এবং মনে হচ্ছে যেন পেটের ভিতরে ‘পোকা নড়াচড়া করছে।’ এরপর তাঁকে মুম্বইয়ের কামা ও আলব্লেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ জানায়, প্রথমদিকে তদন্তে বড় সমস্যায় পড়তে হয়, কারণ তরুণী কথা বলতে পারেন না এবং লিখিতভাবে বা ইশারায়ও কিছু জানাতে চাইছিলেন না। এরপরেই পুলিশ তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বললে তিনি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মেয়ের গর্ভধারণের কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি। এমনকী অভিযোগ দায়ের করতেও অস্বীকার করেন তিনি।
তবে টানা কাউন্সেলিংয়ের পর তরুণীর অভিযোগ দায়ের করতে সম্মত হন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এবং এক ১৭ বছরের কিশোরকে আটক করে। পাশাপাশি, তরুণীর বাবা-সহ মোট ১৭ জনের রক্তের নমুনা ও ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় এবং ভ্রূণের জেনেটিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। ২৭ জানুয়ারি সেই ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়। ভ্রুণের সঙ্গে শুধুমাত্র একজনের ডিএনএ মিলে যায়। সেটি ওই তরুণীর বাবা। পুলিশের অনুমান, ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে গত বছর মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। পরের দিন অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পরবর্তীতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
