আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে যখন কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে রাত দখলের অভিযান করা হয়, সেই আবহেই নাকি দেশবিরোধী স্লোগান তোলেন এক আন্দোলনকারী। ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম চয়ন সেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা তথ্য বলছে, সেই সময় রাত দখলের অভিযানে সামিল হয়েছিলেন এই চয়ন সেন। আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তিনিও। একইসঙ্গে, অন্য আরও অনেকের মতোই রাস্তায় গ্রাফিতি এঁকেছিলেন তিনি। কিন্তু, সেই গ্রাফিতিতে ছিল দেশবিরোধী স্লোগান!
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত দখলের অভিযানে দেশবিরোধী স্লোগান লেখার বিষয়টি নজরে আসতেই তৎপর হয় রাজ্য প্রশাসন। পুলিশ সূত্রের দাবি, গত বছরের (২০২৪) ৮ সেপ্টেম্বর যাদবপুরের এইটবি এলাকায় এই স্লোগান লেখা হয়েছিল।
ঘটনার তদন্তে নেমে টাওয়ার ডাম্পিং পদ্ধতির মাধ্যমে চয়নকে চিহ্নিত করে পুলিশ। প্রসঙ্গত, টাওয়ার ডাম্পিং হল একটি আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল টাওয়ার এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ে মোট কতগুলি মোবাইল চালু ছিল, সেগুলি থেকে কোথায় ফোন করা হয়েছিল, বা সেগুলিতে কোন কোন নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, কতক্ষণ ধরে কথা হয়েছিল – প্রভৃতি যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায় এবং সেই বিপুল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করেই চয়ন সেনের হদিশ পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, বুধবার (২ এপ্রিল, ২০২৫) চয়নকে যাদবপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়।
ধৃত চয়নের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। তাদের দাবি, চয়ন সেন নকশালপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আরজি কর ইস্যুতে ইতিমধ্য়েই জল অনেক দূর গড়িয়েছে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কেই দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে এখনও মামলার একটা অংশ চলছে কলকাতা হাইকোর্টে।
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই জানায়, আরজি করে গণধর্ষণ হয়নি। ঘটনাস্থলে সঞ্জয় ছাড়া অন্য কারও উপস্থিতির প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে, এই ঘটনায় কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন হাসপাতালে উপস্থিত থাকা নার্স, নিরাপত্তারক্ষী, চিকিৎসকদের ডেকে ফের