কুখ্যাত এপস্টেইন-কাণ্ডে সম্প্রতি নতুন করে ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার সবচেয়ে বড় নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। সম্প্রতি প্রকাশিত সেই নথিতে নাম আসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এমনকি বিল গেটস ও ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ আরও গভীর থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। এছাড়া সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ছবি উত্তাপ ছড়িয়েছে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের নথি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার উঠে এলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম। যেখানে বলা হয়, ২০১৭ সালে এপস্টিনের পরামর্শে ইসরাইল সফরে যান ভারতের নরেন্দ্র মোদি। ডনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে মোদি সেসময় নেচে-গেয়ে সময় কাটান বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
তবে এপস্টিনের সঙ্গে মোদির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। তেল আবিব সফর নিয়ে ভারতের সরকার অবগত থাকলেও, ই-মেইলের বাকি তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মোদির জড়িত থাকার তথ্য ভারতের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এপস্টিন-সংক্রান্ত তদন্ত নথিতে মোদির নাম একাধিকবার আসার দাবি করে বিষয়টি ‘জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে সম্পৃক্ত’ বলে জানিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। নথিতে থাকা ই-মেইলগুলো ঘিরে অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।
তবে বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এমন অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। নথিতে মোদি ছাড়াও ভারতীয় ধনকুবের অনিল আম্বানির সঙ্গেও ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এপস্টিনের নিয়মিত যোগাযোগ থাকারও তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে জেফ্রি এপস্টেইনের নতুন নথিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে এক নারীর সঙ্গে অ্যান্ড্রুকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। একই ইস্যুতে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য জেফ্রি এপস্টেইনের নির্দেশে এক নারীকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর তথ্যও উঠে এসেছে।
অভিযোগ দায়ের করা ওই নারীর বরাতে এ তথ্য জানান তারই আইনজীবী। ঘটনাটি ঘটে ২০১০ সালে অ্যান্ড্রুর তৎকালীন বাসভবন রয়েল লজে। তবে বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন সাবেক প্রিন্স।
নতুন প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে সামনে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ধনকুবের ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও। বিল গেটস ও ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ আরও গভীর থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ই-মেইলে দাবি করা হয়, ‘রুশ’ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন গেটস। তবে এ তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে গেটস ফাউন্ডেশন।
আরেক ই-মেইলে ইলন মাস্কের এপস্টেইনের সঙ্গে ক্যারিবিয়ান দ্বীপে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ওই দ্বীপে কখনো না যাওয়ার দাবি করেছেন ইলন মাস্ক।