নির্বাচনের আগে মিয়ানমারে ৩ সহস্রাধিক বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা

Spread the love

নির্বাচন সামনে করে সামরিক শাসনবিরোধী ৩ হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা করেছে জান্তা সরকার। সেই সঙ্গে সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি সাধারণ বন্দির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে।মিয়ানমারে আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে করে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সাড়ে আট হাজারেরও বেশি বন্দির সাধারণ ক্ষমা বা অভিযোগ তুলে নেয়ার ঘোষণা এলো।

তবে এই ঘোষণায় মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চি আছেন কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে কার্যত অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রয়েছেন সু চি।

এমআরটিভি জানিয়েছে, মিয়ানমারের নির্বাচন পরিচালনা করা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও শান্তি কমিশন রাজবন্দিদের সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছে। ৩ হাজার ৮৫ জন বন্দি দণ্ডবিধির ৫০৫(এ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তাদেরকে মুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়।

তাদের অপরাধ- বক্তব্য দিয়ে জনসাধারণের মধ্যে অস্থিরতা বা ভয় তৈরি করা। জান্তাবিরোধী মন্তব্য করা বা ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর ফলে অপরাধ করেছেন তারা। উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে এসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। মিয়ানমারে উস্কানিমূলক এমন অপরাধে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পৃথক আরেকটি ঘোষণায় ৫ হাজার ৫৮০ জন বন্দির মুক্তির কথা জানানো হয়। তারা একই অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এমন অভিযোগে বিচারের পর আত্মগোপনে আছেন, তারাও সাধারণ ক্ষমা পাবেন, এবং তাদের মামলা বন্ধ করে দেয়া হবে।

এসব বন্দিরা কখন মুক্তি পাবেন, তা বলা হয়নি। তবে ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, অবিলম্বে বন্দিদের মুক্তি শুরু হবে। তবে তিনি মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের সংখ্যা ও নাম প্রদান করেননি। 

গ্রেফতার বিষয়ে হিসাব রাখে এমন একটি স্বাধীন সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত সু চিসহ মিয়ানমারে ২২ হাজার ৭০৮ জন রাজনৈতিক বন্দি আটক ছিলেন।

রাজনৈতিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৮০ বছর বয়সি সু চি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২১ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর অনেক প্রতিরোধের হয়। তখন থেকে মিয়ানমারে ব্যাপক সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়। দেশটি মৃত্যু রাজ্যে পরিণত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *