একবার নয়, তিন বার লিগ শিল্ড জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। মুম্বই এবং জামশেদপুরের পর মোহনবাগানের জার্সিতেও তিনি লিগ শিল্ড জিতেছেন। কিন্তু জেতা হয়নি আইএসএল ট্রফি। তাই এই মরশুমে সেই অধরা স্বপ্ন পূরণের আশায় গ্রেগ স্টুয়ার্ট। একই বছর শিল্ডের সঙ্গে ট্রফি জিতেছে একমাত্র মুম্বই সিটি এফসি। এবার মুম্বইয়ের সেই নজির ছুঁতে মরিয়া মোহনবাগান এসজি।
সেই স্বপ্ন সফল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে এবার। তবে মোহনবাগানকে পার করতে হবেআর দু’টি ধাপ। সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল। সেমিতে হোম, অ্যাওয়ে মিলিয়ে ২টি ম্যাচ খেলতে হবে। আর বাগানের সেমিফাইনালে জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে প্রথম লেগের ম্যাচ অ্যাওয়ে। জামশেদপুরে গিয়ে, তাদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়াটা সহজ হবে না।তবে গ্রেগ স্টুয়ার্ট কোনও ভাবেই তাঁর এবার আর তাঁর স্বপ্ন অপূর্ণ রাখতে চান না। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে স্টুয়ার্ট বলেছেন, ‘আমি কখনও প্লে অফ জিতিনি। আমার কাছে এটা একটা বিশাল সুযোগ। প্লেয়ার থেকে শুরু করে স্টাফ, গত কয়েক সপ্তাহে আমরা শুধু এটাই ভাবছি। ক্লাবের ইতিহাস, ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে আমরা নতুন ইতিহাস রচনা করতে চাই। শুধুমাত্র মুম্বই দু’টো ট্রফি একসঙ্গে জিতেছিল। এবার আমরাও সেটা করতে চাই।’
তিনটে জয়ের মধ্য কোনটাকে সবার আগে রাখছেন স্টুয়ার্ট? স্কটিশ তারকা জানালেন, পার্থক্য করা খুবই কঠিন। সবগুলোই তাঁর কাছে স্পেশাল। তবে তারমধ্যেও জামশেদপুরের হয়ে লিগ শিল্ড জয়কে এক নম্বরে রাখছেন। স্টুয়ার্টের দাবি, ‘একটা বেছে নেওয়া কঠিন। সবগুলোই স্পেশাল। প্রত্যেকটার আলাদা গুরুত্ব আছে। তবে জামশেদপুরের হয়ে জয়টা সবচেয়ে কঠিন ছিল। কারণ মোহনবাগান এবং মুম্বইয়ের সঙ্গে জামশেদপুরের প্লেয়ারদের মানের পার্থক্য ছিল। তাই সেটাকেই আগে রাখব।’
গ্রুপ পর্বে জামশেদপুরে ভালো ফুটবল খেলেও হারতে হয়েছে। সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত দিতে হয়েছিল বাগানকে। বৃহস্পতিবার যে ম্যাচটা চ্যালেঞ্জিং হবে, মেনে নিলেন। তবে এবার আর আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না। স্টুয়ার্ট বলেছেন, ‘আগের ম্যাচটা আমরা জিততে পারিনি। আমরা খুব ভালো খেলেছিলাম। এটাই ফুটবল। সুযোগ তৈরি করেও আমরা গোল করতে পারিনি। সেটার খেসারত দিতে হয়েছে। এবারও ম্যাচটা চ্যালেঞ্জিং হবে। দল হিসেবে জামশেদপুরকে সম্মান করতেই হবে। তবে আমরা জেতার জন্যই নামব।’ মোহনবাগান যখন আইএসলের শেষ ম্যাচ খেলে, তখনও তেমন গরম ছিল না। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে তাপমাত্রা বেড়েছে। তবে সেই নিয়ে বেশি ভাবছেন না স্টুয়ার্ট। চার বছর ভারতে খেলছেন। পরিবেশ এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি।