মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভনিরোধক পিল নিয়ে চলা সিনেটের শুনানির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে, যেখানে রিপাবলিকান সেনেটর জশ হ্যাউলি (মিসৌরি) এবং অ্যাশলি মুডি (ফ্লোরিডা) প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পুরুষ কী গর্ভধারণ করতে পারে?’ আর এই প্রশ্নে ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক যা জবাব দিয়েছেন, তা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেনেটের হেলথ, এডুকেশন, লেবার অ্যান্ড পেনশনস (হেল্প) কমিটির ‘মহিলাদের সুরক্ষা: রাসায়নিক গর্ভনিরোধক পিলের ঝুঁকি উদঘাটন’ শীর্ষক বৈঠকে এই ঘটনা ঘটে।
বৈঠকের সময় মুডি ডা. নিশা ভার্মাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘পুরুষ কী গর্ভধারণ করতে পারে?’ তবে নিশা ভর্মা এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান এবং বলেন, তিনি বিভিন্ন পরিচয়ের রোগীদের চিকিৎসা করেন এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চান না। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান এবং প্রমাণ চিকিৎসাবিদ্যাকে পরিচালিত করা উচিত। কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে এই ধরনের হ্যাঁ বা না প্রশ্ন হল রাজনৈতিক হাতিয়ার।’ এরপরেই হ্যাউলি স্পষ্ট উত্তর দাবি করেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট-এ লেখেন, ‘স্পয়লার এলার্ট: পুরুষ গর্ভবতী হতে পারে না।’ উভয় সেনেটর ওই মুহূর্তের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন, যা মহিলাদের স্বাস্থ্য ও গর্ভনিরোধক পিলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছে। বৈঠকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মারিল এবং ডা. মনিক চিরেও উইবেনহরস্টও সাক্ষ্য দেন। লিঙ্গ ও গর্ভপাত নিয়ে এই বিতর্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ২০২৬ সালের মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিশা ভার্মা কে?
ডাঃ নিশা ভার্মা হলেন একজন ভারতীয়-আমেরিকান প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি ফিজিশিয়ানস ফর রিপ্রোডাক্টিভ হেলথের একজন সিনিয়র ফেলো। উত্তর ক্যারোলিনায় একটি ভারতীয় অভিবাসী পরিবারে তাঁর জন্ম। নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি একজন বোর্ড-সার্টিফাইড প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হন। বর্তমানে, নিশা ভার্মা এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের একজন সহকারী অধ্যাপক এবং জর্জিয়া এবং মেরিল্যান্ডের রোগীদের চিকিৎসা করেন। একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে, তিনি গর্ভপাত এবং গর্ভপাত বিধিনিষেধের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছেন। নিশা গর্ভপাত বিধিনিষেধের প্রভাব সম্পর্কে কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণকারী মহিলাদের উপর জর্জিয়ার ছয় সপ্তাহের গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বোঝার জন্য একটি গবেষণা অনুদান পেয়েছেন।