১০ বছর পর এসএসসি-র এসএলএসটি পরীক্ষা হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘অভিজ্ঞতা বোনাস’-এর কারণে নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। সেই অভিযোগেই এবার উত্তাল হয়ে উঠল রাজপথ। সোমবার দুপুরে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলের শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু শুরুতেই পুলিশি বাধায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বচসা থেকে সরাসরি হাতাহাতি-ক্ষোভে ফেটে পড়েন ২০২৫ সালের এসএলএসটি-র পরীক্ষার্থীরা। যার জেরে ধর্মতলা চত্বরে রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রাজপথে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১. এসএলএসটি-তে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত ১০ নম্বর বাতিল, শূন্যপদের সংখ্যাবৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে সোমবার শারীরশিক্ষা-কর্মশিক্ষা নতুন চাকরিপ্রার্থীরা মিছিল শুরু করেন শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে। গন্তব্য ছিল ধর্মতলা। সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ঠিক হয়, তাঁরা রামলীলা ময়দান যাবেন। কিন্তু নির্দিষ্ট রুটেই নতুন চাকরিপ্রার্থীদের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
২. পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এসএলএসটি–২০২৫ পরীক্ষায় বঞ্চনার অভিযোগে এদিন চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখাতে মাঝপথে এসএন ব্যানার্জি রোডে পুলিশ তাঁদের আটকায়। সেখানে প্রতিবাদীদের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের হাতাহাতি হয়। কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়েই এগিয়ে যায় তাঁদের মিছিল। কিন্তু পরে আবার পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এসএলএসটি নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়।
৩. চাকরিপ্রার্থীদের মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছনোর পরও উত্তপ্ত পরিস্থিতির এতটুকু বদল হয়নি। সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেখান থেকে পুলিশ তাঁদের তুলতে গেলে আরেক দফা সংঘর্ষ বাঁধে। এরপরেই অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের কাছে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরে অবশ্য অবস্থান তুলে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তবুও মিছিলের একাংশ ধর্মতলার মোড়ে স্লোগান তুলতে থাকেন-‘হকের চাকরি চাই’, ‘কালো দশ নম্বর চাই না’ ইত্যাদি। এরমধ্যেই পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ তুলে কান্নাকাটি করতে দেখা যায় কোনও কোনও চাকরিপ্রার্থীকে। কেউ আবার রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ দেখান।

৪. এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘দশ বছর পর পরীক্ষা হল, তবুও ফের বঞ্চনা। যে দশ নম্বর অভিজ্ঞদের দেওয়া হচ্ছে, সেটাই কালো পর্দার মতো-সরকার নিজের দুর্নীতি ঢাকতে যোগ্য নতুনদের অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, লিখিত পরীক্ষায় বহুজনই ৬০-এর মধ্যে ৬০ কিংবা ৫৯ পেয়েছেন। তবু তাঁদের ইন্টারভিউর ডাক আসেনি। অভিযোগ, অভিজ্ঞতা বোনাস ১০ নম্বর যোগ হওয়ায় নতুন পরীক্ষার্থীদের অনেকেই পিছিয়ে গিয়েছেন। ইন্টারভিউতে ডাক না পাওয়া পরীক্ষার্থী শিশিরকুমার দাস বলেন, ‘আমরা আদালতের পথ ধরেছি ঠিকই, কিন্তু রায় আসতে দেরি হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। তখন বিচার পেলেও কোনও লাভ থাকবে না। তাই অধিকার বাঁচাতে রাস্তায় আমাদের ভরসা।’