প্রয়াত সিদ্ধার্থ মলহোত্রার বাবা

Spread the love

সিদ্ধার্থ মালহোত্রার বাবা সুনীল মালহোত্রা মারা গিয়েছেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে দিল্লিতে অভিনেতার বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনেতা, তাঁর স্ত্রী কিয়ারা আদবানিকে নিয়ে রাজধানীতে ছুটে আসেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠরা নিশ্চিত করেছে যে, শেষকৃত্য হয়ে গেলেও, সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা আগামী কয়েকদিন দিল্লিতেই থাকবেন।

সুনীল মালহোত্রা, একজন প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি ক্যাপ্টেন, সিদ্ধার্থের জীবনে এক বিরাট প্রভাব ফেলেছিলেন। অভিনেতা প্রায়শই তার বাবার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার কথা বলেছেন। এমনকী বাবাকে নিজের ‘হিরো’র তকমাও দিয়েছিলেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে, এই মৃত্যু সিদ্ধার্থকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

গত বছর এক সাক্ষাৎকারে, সিদ্ধার্থ জানিয়েছিলেন যে তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এমনকী, ‘শেরশাহ’ অভিনেতা বলেছিলেন যে, তিনি মাঝেমধ্যে লজ্জিত বোধ করেন, তাঁর মা-র স্যাক্রিফাইসকে সঠিক গুরুত্ব না দেওয়ার জন্য।

‘আমার বাবা বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। আমি তো মাঝে মাঝে চিন্তায় পড়ে মায়ের উপর একটু বেশিই চিৎকার চেঁচামেচি করে ফেলি। কারণ বাবার ওষুধপত্রের দায়িত্ব মূলত মা-ই নেয়।’

সিদ্ধার্থ নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। বাবার সঙ্গে ছোটবেলার ছবি দিয়ে লেখেন, ‘তিনি ছিলেন সততা, নীতি-নিষ্ঠা এবং সংস্কৃতির অধিকারী একজন বিরল মানুষ। তিনি এমন মূল্যবোধের সঙ্গে জীবনযাপন করতেন যা, কখনও কারও সামনে নত হয় না। কঠোরতা ছাড়া শৃঙ্খলা, অহংকার ছাড়া শক্তি। ইতিবাচকতায় ভরপুর, এমনকী যখন জীবন তাঁকে পরীক্ষার শেষ সীমায় নিয়ে গিয়েছিল, তখনও।

মার্চেন্ট নেভির ক্যাপ্টেন হিসেবে সমুদ্র পরিচালনা থেকে শুরু করে, নীরব সাহসের সঙ্গে অসুস্থতার মুখোমুখি হওয়া পর্যন্ত, তিনি কখনও আপস করেননি। এমনকী যখন স্ট্রোক তাঁকে হুইলচেয়ারে আটকে রেখেছিল, তখনও তাঁর মনোবল অটুট ছিল। বাবা, তোমার সততা আমার উত্তরাধিকার। তোমার শক্তি আমাকে প্রতিদিন পথ দেখায়। তোমার ইতিবাচকতা এখনও এই পরিবারকে একত্রিত করে। তুমি তোমার ঘুমের মধ্যে আমাদের শান্তিতে রেখে গিয়েছ, কিন্তু তুমি যে স্থান রেখে গিয়েছ তা অপরিসীম। আজ আমি যা, তা তোমার কারণেই। এবং আমি তোমার নাম, তোমার মূল্যবোধ এবং তোমার আলোকে সর্বদা এগিয়ে নিয়ে যাব। ভালোবাসি বাবা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *