একটা শুক্রবারের সন্ধ্যা। রাজস্থানের নবদম্পতি আশিস আর অঞ্জু একটু হাঁটতে বেরিয়েছিল, ঠিক তখনই হঠাৎ করে পিছন থেকে একটা গাড়ি এসে ওদের ধাক্কা মারল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আশিসের, অঞ্জুর গায়ে যত সোনার গয়না ছিল, সব লুট করে, তাঁকে মাঝ রাস্তায় অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় আততায়ীরা। প্রথমে এটি সাধারণ হিট-অ্যান্ড-রান মনে হলেও তদন্ত এগোতেই তা ঘুরে যায় ১৮০ ডিগ্রিতে। একই সঙ্গে তদন্তকারীদের ফের মনে করিয়ে দিয়েছে সোনম রঘুবংশীকে, সেই মেঘালয় হানিমুন মার্ডারের কথা।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, নববধূ অঞ্জুই তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে খুন করিয়েছে স্বামী আশিসকে। গোটা ঘটনাকে এখন ‘রাজস্থানের হানিমুন মার্ডার’ বলা হচ্ছে।
অভিশপ্ত ৩০ জানুয়ারির সন্ধ্যা
শ্রী গঙ্গানগরের পুলিশ সুপার অমৃতা দুহান জানান, গত ৩০ জানুয়ারি পুলিশের কাছে রাত ৯টা নাগাদ একটা ফোন আসে। পুলিশকে জানানো হয় যে রাস্তায় জ্ঞানহীন অবস্থায় এক দম্পতি পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ওই ২ জনকে উদ্ধার করে কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে পাঠানো হয়, যেখানে চিকিৎসক আশিসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা জানতে পারি লোকটিকে কোনও একটি গাড়ি ধাক্কা মেরেছে। যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আমরা গোটা এলাকা ঘুরে খতিয়ে দেখি এবং টেকনিক্যাল পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে তদন্তের জন্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি টিমকে তত্ত্বাবধানে নিই।’
২৩ বছরের অঞ্জু পুলিশকে জানান, তিনি এবং তাঁর স্বামী আশিস সন্ধেবেলা হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তখনই একটা গাড়ি এসে তাঁদের ধাক্কা মারে। অঞ্জু এও দাবি করে, তিনি যত সোনার গয়না পরেছিলেন, সব লুট করা হয়। তবে তদন্তের সময় পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। কারণ তাঁরা দেখেন, বাস্তবের ঘটনার সঙ্গে অঞ্জুর বয়ানের একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। আশিসের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট বলছে, তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এদিকে, অঞ্জুর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অঞ্জুর ফোন রেকর্ড থেকে প্রমাণিত হয়, তার বাড়ির কাছেই থাকা সঞ্জু নামে এক যুবকের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে পুনর্মিলন
জানা গেছে, মাত্র তিন মাস আগেই অঞ্জু এবং আশিসের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়েতে খুশি ছিলেন না অঞ্জু। তাই বিয়ের পর তিনি খুব তাড়াতাড়িই নিজের শহরে ফিরে যান। সেখানে তিনি প্রাক্তন প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে দেখা করেন এবং সেই সময় তারা দুজনে আশিসকে খুনের পরিকল্পনা করে। পুলিশ সুপার বলেন, ৩০ জানুয়ারি রাতে অঞ্জু স্বামী আশিসের সঙ্গে হাঁটতে বের হয়। অঞ্জু আশিসকে একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে যায়, যেখানে তিন আক্রমণকারী – সঞ্জু এবং তার সহযোগী, রকি ওরফে রোহিত, এবং বাদল, ওরফে সিদ্ধার্থ ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিল বলে অভিযোগ। সেখানেই তারা আশিসের উপর হামলা চালায় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তারপর এটিকে পথ দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে।
অঞ্জু তার ফোন এবং কানের দুল অভিযুক্তদের হাতে দিয়েছিল, যাতে মনে হয় যে বিষয়টা ডাকাতি। আক্রমণের পর সে অজ্ঞান হয়ে থাকার ভান করেছিল। কিন্তু আশিসের শরীরে আঘাতের চিহ্ন চক্রান্তের রহস্য ফাঁস করে দেয়। অঞ্জু ধারাবাহিকভাবে তার বয়ান পরিবর্তন করায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে।