দফায় দফায় বৈঠক। কিন্তু ভোট ক্রমশ এগিয়ে এলেও সিপিএম-এর জোট কার সঙ্গে হবে, সে উত্তর এখনও অধরা। বিমান বসুদের সঙ্গে আগেও বৈঠকে বসেছেন আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী। তবে এবার জোট আলোচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চান আইএসএফ বিধায়ক। ছাব্বিশের মহারণের আগে যত দ্রুত সম্ভব জোটের আলোচনা শেষ করতে হবে বলে তৎপর হয়েছেন তিনি। এই আবহে বৃহস্পতিবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে আলিমুদ্দিনে বৈঠক করলেন বিমান বসু-নওশাদ সিদ্দিকী।
সূত্রের খবর, বৈঠকে বামেদের তরফে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে, আইএসএফের তরফে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী, শামসুর আলী মল্লিক, বিশ্বজিৎ মাইতিরা। জানা গেছে, একাধিক বিধানসভা ধরে ধরে আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে। তবে বাম-আইএসএফ জোট যে হচ্ছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্তু জটিলতা রয়ে যাচ্ছে আসন ভাগাভাগি নিয়ে। আইএসএফ যে এবার আগের তুলনায় বেশি আসন চাইছে, তা আগেই জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, বাম আর আইএসএফ জোট থমকে রয়েছে ৩১-৩২ আর ৪৩-৪৪ ফর্মুলায়। আইএসএফ-এর তরফে ৪৩ থেকে ৪৪টি আসন দাবি করা হয়। কিন্তু, বাম নেতৃত্ব ৩০ টির বেশি আসন আইএসএফকে দিতে নারাজ। ফলে এখনও ১৩টি বিধানসভা আসন নিয়ে টানাপোড়েন অব্যহত।
সূত্রের খবর, এখনও ১৩ টি আসনে কোনও সমঝোতা সৃত্র বেরিয়ে আসেনি এই বৈঠকে। এই ১৩ টি আসনের মধ্যে দুই ২৪ পরগনার একাধিক আসন রয়েছে। আইএসএফ দাবি করেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বর্তমানে বামফ্রন্টের বা সিপিএমের তুলনায় আইএসএফের প্রভাব অনেকাংশেই বেশি। ফলে এই আসনগুলিতে কেন আইএসএফ লড়তে চায় তার যুক্তিগুলি বিমান বসু এবং মহম্মদ সেলিমের কাছে বৈঠকে তুলে ধরেন নওশাদ সিদ্দিকী-রা। যদিও সূত্রের খবর এখনও ৩০টির বেশি আসন দিতে নারাজ বিমান, সেলিমরা। তবে ফের আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বামেদের তরফে। দ্রুত সব মিটিয়ে ফেলা হবে একথাও জানানো হয়েছে নওশাদদের। দীর্ঘ বৈঠকের শেষে দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু না বললেও সূত্রের খবর, আসন সমঝোতার জট অনেকটাই কেটে গেলেও সংখ্যা এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি আসন নিয়ে এখনও জটিলতা রয়েই গেছে। আইএসএফ-এর চাওয়া এই আসনগুলিতে, বহু ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে সিপিএম লড়ে আসছে। ফলে সব আসন ছেড়ে দিলে এলাকায় ক্রমশ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে সিপিএম। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকার কর্মীরা সেই কথা নেতৃত্বকে বলেছেন। ফলে কর্মীদের কথা মাথায় রেখে এখনও নওশদকে কোনও পাকা কথা দিতে পারছেন না বাম নেতৃত্ব। বাম-আইএসএফ জোট যে হচ্ছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। তবে এবার জটিলতা রয়ে যাচ্ছে আসন ভাগাভাগি নিয়ে। আইএসএফ আগের তুলনায় বেশি আসন চাওয়ায় এখনও দ্বন্ধে বাম নেতৃত্ব। ২৬ এর নির্বাচনে বাম আইএসএফ জোট কোন দিকে মোড় নেয় তার উত্তর দেবে সময়।
