‘বন্দে মাতরম’ আলোচনায় কংগ্রেসকে ‘তোষণ’ তোপ শাহের

Spread the love

যাঁরা বন্দে মাতরম বলত, তাঁদের জেলে পুরে দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনায় কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ বছরে বন্দে মাতরম স্তোত্রর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন হচ্ছে। বছরভর জাতীয় বন্দনাগীতির মর্যাদা নিয়ে যদুনাথ ভট্টাচার্যের সুরারোপিত এই গানের ১৫০ বছর পূর্তি পালন করা হবে। এদিকে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর মঙ্গলবার রাজ্যসভায় ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনার সূচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

রাজ্যসভায় ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনা সূচনা করার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘এটা সত্যি যে বন্দে মাতরমের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলার বাসিন্দা ছিলেন, আনন্দ মঠের উৎপত্তি বাংলায়। কিন্তু পরে সেই বন্দে মাতরম দেশের সীমা ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তে আমাদের জওয়ানরা শহিদ হওয়ার সময়ও বলে থাকেন বন্দে মাতরম।’ এরপরেই তৃণমূল-সহ বিরোধীদের নিশানা করে তিনি বলেন, ‘গতকাল কয়েকজন লোকসভায় প্রশ্ন তুলেছে, আজ বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন পড়ল কেন? বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন স্বাধীনতার সময়ও ছিল, আজও আছে, আগামিদিনেও থাকবে। কেউ কেউ বাংলার ভোটের সঙ্গে বন্দে মাতরমের যোগ তৈরি করে গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘একাধিক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে সংসদ। বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিতে গানকে চিরকালীন করার জন্য এই আলোচনা। আগামিদিনেও যেন বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্য অনুভব করতে পারে সবাই।’

অমিত শাহ আরও বলেন, ‘ব্রিটিশরা যখন এক নতুন সংস্কৃতি প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল। আর ঠিক সেই সময় বন্দে মাতরম রচনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় কোনও সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না, ব্রিটিশরাও বাধা দিয়েছিল, তারপরও সবার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরম। বন্দে মাতরম রচনা হওয়ার সময় উচ্চমানের সাহিত্য সৃষ্টি বলেই বিবেচিত হত। পরবর্তীতে স্বাধীনতার পথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বন্দে মাতরম। আগামী প্রজন্ম বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্য বুঝবে। ভারত মা-কে মুক্ত করার স্লোগান ছিল এই বন্দে মাতরম। স্বাধীনতার স্তোত্র ছিল বন্দে মাতরম।’ এরপরেই কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরমের সুবর্ণজয়ন্তীতে জওহরলাল নেহরু এই গানকে দু’টুকরো করে দিয়েছিলেন। গানের মহিমা ক্ষুন্ন করেছিল কংগ্রেস। সেই থেকে তোষণ শুরু। আর তার জেরেই পরবর্তীতে দেশভাগ হয়।’ এখানেই না থেমে বিরোধী সাংসদের বিক্ষোভের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দে মাতরমের ১০০ বছর পূর্তিতে কোনও উদযাপন হয়নি, কারণ যারা বন্দে মাতরম বলত, তাদের জেলে পাঠিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবাই জানে আমাদের দেশ অনন্য। ভারত একমাত্র দেশ যাদের সীমান্ত সংস্কৃতি দিয়ে তৈরি। আমাদের দেশের ঐক্যের মন্ত্র আমাদের সংস্কৃতি। যখন বন্দে মাতরমে বাধা দিচ্ছিল ব্রিটিশরা, তখন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, আমার সব সাহিত্য গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলেও কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু বন্দে মাতরম অনন্তকাল ধরে থেকে যাবে। ভারতের পুনর্নিমাণের মন্ত্র হবে। বঙ্কিমচন্দ্রের সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আমরা মানি, ভারত মায়ের রূপ, নেহাত এক টুকরো জমি নয়। দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গা তিন রূপই ভারত। আমাদের সমৃদ্ধি, সুরক্ষা, জ্ঞান সবটাই ভারত মায়ের কৃপা। এক বড় সংকল্পের কথা ছিল ওই গানে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *