এ বছরে ‘বন্দে মাতরম’ স্তোত্রর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন হচ্ছে। বছরভর জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা নিয়ে যদুনাথ ভট্টাচার্যের সুরারোপিত এই গানের ১৫০ বছর পূর্তি পালন করা হবে। এদিকে, সোমবারই সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই আবহে বাংলার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে বিঁধলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র সজল চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘অবহেলা করার’ অভিযোগ তুললেন তিনি।
সোমবার এনডিটিভিকে দেওয়া এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে সজল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন প্রতীকী নাম। তিনি ব্রিটিশদের উপর চাপ তৈরি করে রেখেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার (কংগ্রেস) না বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে গুরুত্ব দিয়েছে, না তাঁর কাজকে। এমনকী, ওরা এখনও একই রকম অবহেলা করে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই ওঁরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করেছেন। অবশ্য বলে রাখা প্রয়োজন, এখনকার কেন্দ্রীয় সরকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে গুরুত্ব দেয়। তবে বাংলার সরকার সেই একই রকম রয়েছে।’ রাজ্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে গিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের তৈরি হওয়া তাঁর ভাল সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন সজল। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা যে তাঁর মাঝে মধ্যেই খোঁজ নেন সেটাও জানিয়েছেন তিনি। সজল চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘২০১৮ সালে অমিত শাহ আমাদের কলকাতার বাড়িতে এসেছিলেন। তখন তো এখানে কোনও নির্বাচন ছিল না। তিনি তাও এসেছিলেন। রাজ্য সরকারের মানসিকতা আমি বুঝতে পারি না।’
কিন্তু রাজ্যের প্রতি এত ক্ষোভ কেন তাঁর? সোমবার সেই মর্মেই বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র। তাঁর দাবি, ‘আমাদের বঙ্কিম ভবন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় চাই। সংসদে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত বাজে, এটা মৌখিক ভাবে হয়। তারপর ‘বন্দে মাতরম’ বাজে, কিন্তু সেটা হয় শুধু সুরের মাধ্যমে অর্থাৎ ইনস্ট্রুমেন্টাল। আমাদের দাবি, এটাও গাইতে হবে।’ এদিন যখন ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে এই দাবি করছেন সজল. সেই সময়ই জাতীয় গান নিয়ে সংসদে সরব হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন তিনি। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঐতিহাসিক দিনটিতে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বক্তব্যে নয়া বিতর্কের সূচনা করেন। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, ১৯৩৭ সালে ফৈজাবাদে দলের অধিবেশনে কংগ্রেস গানটির কয়েকটি ছন্দ বাদ দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন যে, কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত দেশভাগের বীজ বপন করেছে এবং জাতীয় সঙ্গীতকে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। তবে কংগ্রেস দাবি করেছে যে, এই সিদ্ধান্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শের ভিত্তিতে এবং অন্যান্য সম্প্রদায় ও ধর্মের সদস্যদের অনুভূতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্যই করা হয়েছিল।
