সদ্য ট্রাম্পের চাপানো শুল্ক নিয়ে মার্কিন সরকারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট। তার জেরে আমেরিকার সঙ্গে বিশ্বের নানান দেশের বাণিজ্যিক সমীকরণে কিছুটা প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত অবস্থা নিয়ে ভারত- ওয়াশিংটন আলোচনাও জারি। এরই মাঝে ‘বন্ধু’ ইজরায়েলের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মোদীর ইজরায়েল সফরে একাধিক মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এছাড়াও দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য বা FTA নিয়েও চর্চায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী। এদিন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিনও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী, ইজরায়েলে এদিন তাঁর ভাষণে জানান, ‘ইসরায়েলে UPI ব্যবহারের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।’ ফলে এবার ইউপিআই-র সুবিধা নেতানিয়াহুর দেশেও মিলবে। এছাড়াও মোদী এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনার পর, ভারত এবং ইজরায়েল উদ্ভাবন এবং কৃষি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মোদী বলেন, ভারত ই়জরায়েলের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে ভারত এবং ইজরায়েল শীঘ্রই পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি এফটিএকে চূড়ান্ত রূপ দেবে।
মোদী এদিনের অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ভারত এবং ইজরায়েল সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট যে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের কোনও স্থান নেই। কোনও রূপ বা প্রকাশেই সন্ত্রাসবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সন্ত্রাসবাদ এবং এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছি এবং আমরা তা অব্যাহত রাখব।’ ইজরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামাস হামলারও নিন্দা করেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন, ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন যে, ‘মানবতাকে সংঘাতের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।’ দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্বের জন্য একটি চুক্তিতেও পৌঁছেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে, ইজরায়েলের মাটিতে মোদী পা রাখতেই তাঁকে সাদরে অভ্যর্থনা জানান সেদেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী। এরপর এদিনের সভায়, নেতানিয়াহু জানান, তাঁর স্ত্রীয়ের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয় এক ভারতীয় রেস্তোরাঁয়। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণও করেন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলে মোদীর পা রাখার পরই নেতানিয়াহু তাঁকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। এদিন দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চলে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরই মাঝে দুই দেশ মুক্তি বাণিজ্যের দিকেও চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মার্কিন বাণিজ্যে ট্রাম্প-শুল্কের দাপটের মাঝে মোদীর ইজরায়েল সফর ও ইজরায়েল-ভারত চুক্তি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।