ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য মিত্র দেশগুলোর কাছে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর সহায়তা চেয়েও হতাশ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রাঁ বলেছেন, বলপূর্বক হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য সামরিক অভিযান চালানো হবে ‘অবাস্তব’ পদক্ষেপ।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক্রোঁ এ মন্তব্য করেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কিছু লোক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বলপূর্বক হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার ধারণাকে সমর্থন করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও মাঝে মাঝে এ কথা বলে থাকে। যদিও তাদের অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে।’
তিনি বলেন, এটি (হরমুজ প্রণালি খোলা) এমন একটি বিষয় যা আমরা কখনোই সমর্থন করিনি। কারণ এটা অবাস্তব। তিনি আরও বলেন, ‘এটা বলপূর্বক খোলতে গেলে আজীবন লেগে যাবে। যারাই এ প্রণালি খুলতে যাবে তারাই ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকির মুখে পড়বে।’ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির সমস্যার সমাধান হবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা না করা হলে কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে পারে।’
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে উপহাস করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাদের একান্ত ব্যক্তিগত জীবন সামনে এনে তিনি বলেছেন, ম্যাক্রোঁর স্ত্রী তার সঙ্গে ‘বাজে’ আচরণ করেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের এক ব্যক্তিগত মধ্যাহ্নভোজের সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের তাদের (সহায়তার) প্রয়োজন নেই, কিন্তু এরপরও আমি চেয়েছিলাম।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি ফ্রান্সে ফোন করি, ম্যাক্রোঁকে – যার স্ত্রী তার সাথে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন। চোয়ালে (স্ত্রীর) এক ঘুষির ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেননি তিনি।’