সিঙ্গুরে এদিন ‘টাটারা মাঠ’এ বিজেপির সভায় যোগ দিয়ে ফের একবার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী এদিন হুগলির মাটিতে সিঙ্গুরে একটি সরকারি সভার পাশাপাশি একটি দলীয় সভাতেও যোগ দেন। সেখানে থেকে তিনি একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন।
সিঙ্গুরে মোদীর ভাষণে উঠে আসে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রসঙ্গ। এই বিশিষ্ট সাহিত্যিককে সম্বোধন নিয়ে কিছুদিন আগেই মোদীর সংসদের ভাষণে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। এদিন মোদী হুগলির মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেন,’ এমন সময় সিঙ্গুর এসেছি যখন পুরো দেশ বন্দেমাতরমের ১৫০ বছরের পূর্তি পালন করছে। সংসদেও এর চর্চা হয়েছে।.. পুরো দেশ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। হুগলি আর বন্দেমাতরমের সম্পর্ক আরও বিশেষ, কারণ কথিত রয়েছে, এখানেই ঋষি বঙ্কিমজি বন্দেমাতরমকে তার পূর্ণ স্বরূপ দিয়েছে।’ উল্লেখ্য, হুগলির জোড়াঘাট এলাকায় রয়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বন্দেমাতরম ভবন।
এদিকে, সিঙ্গুরের সভা থেকে মোদী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে বাংলাভাষার প্রসঙ্গও আনেন। তিনি বাংলার নারী নিরাপত্তা, শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুতে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে নিশানা করেন। মোদী বলেন,’আপনার একটি ভোটই নিশ্চিত করবে এ রাজ্যে সন্দেশখালির মতো ঘটনা আর হবে না। আপনার ভোটই নিশ্চিত করবে যে, আগামী দিনে ফের কখনও হাজার হাজার শিক্ষক নিজেদের চাকরি হারাবেন না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,’এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই লগ্নি, বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু এখানে মাফিয়াদের ছাড় দিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে সব কিছুতে সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স এবং মাফিয়াবাদকে বিজেপিই শেষ করবে।’ মঞ্চ থেকে মোদীর বার্তা,’এখানে কলেজে ধর্ষণ এবং হিংসায় লাগাম টানতে বিজেপিকে ক্ষমতা আনা দরকার।’ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ দেগে মোদী বলেন,’তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের এবং দেশের সুরক্ষা নিয়ে খেলা করছে। এখানকার তরুণদের বিশেষ করে সতর্ক থাকতে হবে।’ মোদী বলেন,’ তৃণমূল এখানে অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে ধর্নায় বসে। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের এই কারণেই পছন্দ করে, কারণ তারা ওদের ভোটব্যাঙ্ক।’ মোদীর সাফ কথা,’যাঁরা বিগত সময়ে বিভিন্ন ভুয়ো নথি বানিয়ে এই দেশের ভিড়ে মিশে গিয়েছেন, তাঁদেরও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।’
