বাংলার মুকুটে জুড়ল নতুন পালক। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের রিপোর্ট উল্লেখ করে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক সম্প্রতি ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেন্ডিয়াম ২০২৫ সালের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকাতেই পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম পছন্দের আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
কেন্দ্রের সার্টিফিকেট ও উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী
বুধবার এক্স বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম পছন্দের আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং আরেকটি দুর্দান্ত মাইলফলক অর্জন করেছে। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেন্ডিয়াম ২০২৫-এ, পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করেছে!’ তিনি আরও জানান, ‘কোভিড-পরবর্তী পর্যটন পুনরুত্থান হল উৎসব পর্যটন, ধর্মীয় পর্যটন, MICE (সভা, প্রণোদনা, সম্মেলন এবং প্রদর্শনী) পর্যটন-সহ পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং প্রচারের জন্য আমাদের গৃহীত উদ্যোগের প্রতিফলন।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভারতের সবচেয়ে মধুরতম অংশ পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমণ এবং এর সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য উপভোগ করার জন্য দেশি-বিদেশি সকল পর্যটককে স্বাগত জানাই। আমি পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই গর্বের মুহূর্ত অর্জনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করা সমস্ত পর্যটন অংশীদারদের ধন্যবাদ জানাই।’
কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের রিপোর্ট
কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি পর্যটক টানতে যে রাজ্যগুলির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে, তারমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মারাঠা মুলুকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিদেশি পর্যটক গিয়েছে ৩৭ লক্ষ। পশ্চিমবঙ্গ পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গলের শোভা দেখতে এসেছেন ৩১ লক্ষ বিদেশি পর্যটক। গত অর্থবর্ষে যত সংখ্যক বিদেশি পর্যটক ভারত ভ্রমণে এসেছিলেন, তা প্রায় ২০১৯ সালের সমান। যা ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে কোভিড বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়েছিল গোটা দুনিয়াকে। কোভিড পর্বের লকডাউন বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর অভিঘাত তৈরি করেছে। বহু পণ্ডিতের দাবি, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকে ২০২২ সালের গোড়া পর্যন্ত যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই ক্ষতি সামলাতে বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে। কোভিডের কারণে তৈরি হওয়া মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নানা ভাবে নানা দেশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিদেশি পর্যটকদের ভারতে আগমন সেই পরিস্থিতির বদল ঘটিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলার পর্যটন ও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ
বাংলা বরাবরই পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পর্যটনের পীঠস্থানও বলা যেতে পারে। একদিকে পাহাড়, হিমালয়ের লোকে থাকা শৈলশহর দার্জিলিংয়ের সৌন্দর্য। অন্যদিকে, সুন্দরবনের গভীর অরণ্যের পাশাপাশি আছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত। এই তিন জায়গাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে একাধিক পর্যটন কেন্দ্র। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার পর্যটনে আরও জোর দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আরও ঢেলে সাজানো হয়েছে। কলকাতার উপকণ্ঠে একাধিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কেবল হোটেল নয়, হোম স্টে ব্যবসাও শুরু হয়েছে পাহাড়ের কোলে। পর্যটকদের থাকার সুবিধার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আর্থিক ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে বলে খবর। রাজ্যের বাসিন্দারা বাংলাতেই বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার দিকে জোর দিচ্ছেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। বিদেশি পর্যটকরাও বাংলায় আসছে বেশি সংখ্যায়। রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলি ঘুরে, আতিথেয়তা পেয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, বিদেশিরা আরও বেশি করে বাংলায় আসছেন বলে খবর। আর সেই তথ্য জানিয়েছে খোদ কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রক।