ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় বিপর্যয়। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই সেনসেক্স এবং নিফটি – উভয় সূচকই মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিএসইয়ের প্রধান সূচক সেনসেক্স প্রায় ১,৮০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের হাহাকার বাড়িয়ে দিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লগ্নিকারীরা প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকার সম্পদ হারিয়েছেন। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই এই পতনের মূল কারিগর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই আকস্মিক পতন?
১) ইরান-ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতীয় বাজারে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে।
২) অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি: ভারত প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানির খরচ বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটি সরাসরি শেয়ার বাজারের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
৩) বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি: গত কয়েক সেশন ধরেই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। সোমবার সেই বিক্রির হিড়িক আরও বেড়ে যায়। চিনের বাজার কিছুটা চাঙ্গা হওয়া এবং ভারতের বাজারের উচ্চ মূল্যায়নের কারণে বিদেশি সংস্থাগুলি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভারতের শেয়ার বিক্রি করছে।
৪) মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ: আমেরিকার বাজারে সুদের হার কমানো বা না কমানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সেইসঙ্গে সেদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন বাজারের পতনের রেশ ভারতীয় বাজারেও অনুভূত হয়েছে।

৫) টেকনিক্যাল কারেকশন ও প্রফিট বুকিং: বাজার দীর্ঘ সময় ধরে রেকর্ড উচ্চতায় থাকার পর একটি বড় পতনের বা ‘কারেকশন’-এর অপেক্ষা করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করতেই বাজারে বড় ধস নামে।
বিনিয়োগকারীদের উপরে কী প্রভাব পড়বে?
বাজারের এই পতনে বিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজার মূলধন একধাক্কায় প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকা কমে গিয়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মতো বড় শেয়ারগুলো তিন থেকে চার শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যাওয়ায় এই ক্ষতি আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।