গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার নিম্নমুখী শেয়ার বাজার। কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার পর বাজারে স্বস্তি ফিরবে, এই আশায় রবিবারও খোলা ছিল বাজার। কিন্তু আশার আলো তো দূর, দালাল স্ট্রিটে রক্তক্ষরণ আরও বাড়ল। বাজেট ভাষণ শেষ হতেই হু হু করে ১৬০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল সেনসেক্স। ৪৮১ পয়েন্ট পড়ে যায় নিফটিও। তারপর বাজার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও দিনের শেষে বিনিয়োগকারীদের মুখ আরও ম্লান হল।
১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি ঘোষণা করেন, ০.০২ শতাংশ থেকে এসটিটি বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ। এসটিটি অর্থাৎ সিকিয়োরিটিস ট্রানজাকশন ট্যাক্স কার্যকর হয় স্টক কেনাবেচার ক্ষেত্রে। মিউচুয়াল ফান্ড-সহ নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগেই কার্যকর হয় এই কর। একলাফে কর বেশ খানিকটা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের পরিমাণ কমতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই হুড়মুড়িয়ে পড়ল ভারতের স্টক মার্কেট। দিনের শেষে ১৮৪৩. ৪৩ পয়েন্ট পড়ে সেনসেক্স দাঁড়ায় ৮০,৭২২.৯৪ পয়েন্টে। নিফটি ৫০ পড়ে যায় ৫৯৩.৪৫ পয়েন্ট। ফলে শেষ পর্যন্ত নিফটি কমে দাঁড়িয়েছে ২৪,৮২৫.৪৫ পয়েন্টে। জানা যাচ্ছে, এই পতনের ফলে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১৬ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বাজেটের কারণে রবিবার শেয়ার বাজার খোলা হয়েছিল অনেক প্রত্যাশা নিয়ে। সাধারণ মানুষ মনে করেছিল এই কয়েকদিন ধরে যেভাবে শেয়ার বাজারের ক্ষতি হয়েছে, বাজেট পেশের পর তার হাল ফিরবে অনেকটাই। তবে ঘটেছে তার ঠিক উল্টোটা। অনেকেই বলছেন নির্মলা সীতারমনের ওই বাজেট শেয়ার মার্কেটের মাথায় যেন শাস্তির খাঁড়া ঝুলিয়ে দিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল সূচক, সেনসেক্স, ট্রেডিং সেশনের সময় প্রায় ২,৪০০ পয়েন্ট কমেছে। ট্রেডিং সেশনের সময়, সেনসেক্স সর্বনিম্ন ৭৯,৮৯৯.৪২ পয়েন্টে পৌঁছয়। সকালে সেনসেক্স ৮২,৩৮৮.৯৭ পয়েন্টে খোলা হয়েছিল এবং উদ্বোধনী সেশনে সর্বোচ্চ ৮২,৭২৬.৬৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ট্রেডিং সেশনের সময় নিফটি ৭৪৯ পয়েন্ট কমেছে। এর পরে, ট্রেডিং সেশনের সময় নিফটি ২৪,৫৭১.৭৫ পয়েন্টের সর্বনিম্ন পয়েন্টে পৌঁছয়। সকালে নিফটি ২৫,৩৩৩.৭৫ পয়েন্টে খোলা হয়ে ২৫,৪৪০.৯০ পয়েন্টে সর্বোচ্চ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
