মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের দিন আরবি পোশাক পরা দু’জনকে ‘সৌদি আরব’ থেকে আসা বিশেষ অতিথি বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। ঘোষণার পরই উৎসাহ বেড়ে যায় মানুষের মধ্যে। এই ঘটনার ৫ দিন পর ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে উঠল নানান প্রশ্ন। তাঁরা কী সত্যিই সৌদি আরব থেকে এসেছেন? নাকি পুরোটা সাজানো? এমনও দাবি করা হয়, ওই দু’জন মেদিনীপুরেরই বাসিন্দা। বিতর্ক যখন তুঙ্গে, এমন সময়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজেই।
কী বলছেন হুমায়ুন কবীর?
সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়কের দাবি, ওই দু’জনের সম্পর্কে কিছুই জানতেন না তিনি। সরাসরি দায় চাপিয়েছেন ইউসূফ নামের এক ব্যক্তির ওপর। হুমায়ুনের কথায়, ‘প্রেসিডেন্ট বদরুল আলম আর ভরতপুরের ছেলে ইউসূফ ভুলটা করেছে। ওকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। বলেছিল গুজরাট থেকে অতিথিদের আনতে বিমান ভাড়ার খরচ লাগবে। আমি টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা কাউকে সাজিয়ে নিয়ে এসেছে। এর দায় আমার নয়।’ এরই সঙ্গে হুমায়ুন আরও দাবি করেন, ‘পুরো ঘটনার পিছনে রয়েছে চক্রান্ত। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ব্লান্ডার করতে সাহায্য করেছেন।’ যদিও গ্রন্থাগারমন্ত্রী এই অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
বাবরি মসজিদের শিলান্যাস
গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন হুমায়ুন কবীর। তার আগেই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ভরতপুরের বিধায়ককে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। তবে মসজিদের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে এসেছিলেন বহু মানুষ। পাশাপাশি বাবরি মসজিদের অনুদানের জন্য ১১টি বাক্স বসিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। অল্প সময়ের মধ্যে দানবাক্স যেন উপচে পড়েছে। এমনকী টাকা গোনার জন্য হুমায়ুন ৩০ জন লোককে নিযুক্ত করেছেন। এত পরিমাণ টাকা-সোনার গয়না মসজিদের জন্য দান করা হয়েছে, তার জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা পর্যন্ত করতে হয়েছে হুমায়ুনকে। কেউ কেউ আবার মসজিদ নির্মাণের জন্য ইট, বালি পাথর দান করছেন। অন্যদিকে, তিন দিনে তিন কোটি টাকার অনুদান- নোটে ঠাসা বাক্সের হিসেব এখনও শেষ হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঘনাচ্ছে জল্পনা। এত টাকা হঠাৎ এল কোথা থেকে? সমালোচকদের অভিযোগ, মসজিদ নির্মাণ আর নতুন দল, দুয়ের আড়ালে কী বিদেশি অর্থ? দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন বলেন, ‘বিদেশ থেকে কেন টাকা আসবে? দেশের মুসলিমদের কী টাকা নেই?’

তিনি আগেই জানিয়েছেন, ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের টেক্সটাইল মোড়ে তাঁর নতুন দল আত্মপ্রকাশ করবে। এদিন দাবি আরও বহুদূর প্রসারিত, ‘২৬-এর বিধানসভা ভোটে আমার দল বড় ফ্যাক্টর হবে। তৃণমূল বা বিজেপি, কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সরকার গড়তে হলে আমাকেই দরকার হবে। মুখ্যমন্ত্রী যেই হন, আমাকে নিয়েই সরকার করতে হবে।’ আত্মবিশ্বাসে অটল হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ওয়েট করুন… ২২ তারিখ সিনেমা দেখাব।’