বাম-কংগ্রেসকে জোটে টানতে ‘হেলিকপ্টার’ তোপ হুমায়ুনের

Spread the love

ছাব্বিশের মহারণের আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে ফের এক নতুন মেরুকরণের সংকেত। তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে উত্তাল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এবারের নির্বাচনে সিপিএম, কংগ্রেসকে নিজের জোটে টানতে কার্যত মরিয়া হুমায়ুন কবীর। তাঁর সঙ্গে জোটে এলে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রচারের সুযোগ মিলবে, এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক। এখানেই প্রশ্ন, হেলিকপ্টারের বিপুল ভাড়া মেটাবে কে? ‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’ প্রবাদ আওড়ে তিনি আরও ধন্দ বাড়িয়েছেন। হুমায়ুনের ‘গৌরী সেন’ কী নাকি অন্য কেউ? তা অবশ্য খোলসা করেননি তিনি।

বলা বাহুল্য, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকেই হেলিকপ্টারের টোপ দেওয়া হয়েছে। সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুনের যে সখ্যতা জমে উঠেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে পাঁচতারা হোটেলে দীর্ঘ বৈঠক হয় হুমায়ুনের। যা নিয়ে লাল পার্টির মধ্যে কোন্দল চলছে। এই আবহে মঙ্গলবার হুমায়ুন বলেন, ‘আমি দু’মাসের জন্য হেলিকপ্টারে ভাড়া করে প্রচার করব। জোট প্রার্থীদের হয়েও প্রচারে যাব।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘সিপিএম-কংগ্রেস যদি আমার সঙ্গ দেয়, তাহলে ভালো। যে কংগ্রেস, যে সিপিএম শূন্য রয়েছে, আগামী দিনে তারা শাসকদলে পরিণত হবে।’ তিনি জানিয়েছেন, বেলডাঙায় তৈরি হচ্ছে স্থায়ী হেলিপ্যাড, থাকবে স্ট্যান্ড বাই হেলিকপ্টারও। হুমায়ুন আরও বলেন, ‘সেলিম সাহেবকে আমি নিজে বলেছি, মুর্শিদাবাদে একটা সিটে দাঁড়াতে হবে। মানুষ ভোট যাতে দেয়, আমি দেখব। উনি রাজি হননি এখনও পর্যন্ত। আমি তো রানিনগরে ড. হুমায়ুন কবীরকে প্রার্থী করেছি। যদি সেলিম সাহেব দাঁড়ান, আমি সেই আসন ছেড়ে দেব।’

কী বললেন সুজন চক্রবর্তী?

এদিকে, হুমায়ুন প্রসঙ্গ টেনে ইঙ্গিতে সেলিমকেও ফের ধুয়ে দিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। সেলিমের প্রশংসা করতে গিয়ে হুমায়ুন ব্যঙ্গ করেছিলেন সুজনকে। তিনি বলেন, সেলিম সাহেব ভালো। কিন্তু সুজন ভোটে জিততে পারেন না। সুজনের উদ্দেশ্যে তিনি এও বলেন, ‘এক কমিউনিস্ট বৈঠকে বসতে আসছেন আরেক জনের গোঁসা হচ্ছে।’ মঙ্গলবার সুজন পাল্টা হিসাবে একটি ফেসবুক পোস্ট করে হুমায়ুনকে তীব্র আক্রমণ করেন। সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘হুমায়ুনটা কে আমি জানি না। তিনি নাকি বলেছেন, সুজনবাবু কোনওদিন ভোটে জিততে পারেন না। সেলিমবাবু ভালো। সেলিমবাবু যে ভালো, সেটা আমি জানি। তিনি আমাদের দলের সেক্রেটারি। কিন্তু হুমায়ুনের সার্টিফিকেট আমার দরকার হয় না।’ হুমায়ুনের প্রতি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে সুজন আরও বলেন, ‘৩০-৭০-এর ভাগাভাগি করে যাঁরা ভাসিয়ে দিতে চায়, যে একবার তৃণমূল, একবার কংগ্রেস, একবার বিজেপি, ফের তৃণমূল ইত্যাদি করে বেড়ায়, তাঁর কথা শুনতে হবে নাকি? অমিত শাহর মতো বাহিনী যাঁরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাঁদের সার্টিফিকেট আমাদের লাগবে না।’

তৃণমূলের কটাক্ষ

সাসপেন্ডেড বিধায়ককে কটাক্ষ করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর জোটে এলে হেলিকপ্টারের টোপ দিচ্ছেন। প্যাকেজ করে দিচ্ছেন। দেখুন হেলিকপ্টারের লোভে ট্র্যাকসুট পরে সেলিম চলে যাবেন।’ কংগ্রেস আগ্রহ না দেখানোয় তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গড়তে ব্লক-বুথ স্তরের কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার জন্য সিপিএম নেতা-কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন সেলিম। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের এই মন্তব্যে ‘ঘর ভাঙানোর হুমকি’ হিসাবেই দেখছে কংগ্রেস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *