ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। দেশজুড়ে একদিনে তিনশ’র বেশি বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। মিনেসোটা থেকে শুরু করে সান ফ্রান্সিসকো পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এ বিক্ষোভ। অভিবাসীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে আইসিই’র বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনার পরও অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাহিনীটি।
অভিবাসী হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নামেন হাজারো মানুষ। তাদের দাবি, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই’র অত্যাচার ও শোষণ বন্ধ করা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিশেষ বাহিনীটির অভিযানের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু মিনিয়াপোলিসের শিশু, যুবক ও বয়স্করা। স্লোগানে স্লোগানে আইসিই’র এ ধরনের দমন-পীড়নের নিন্দা ও ক্ষোভ জানান আন্দোলনকারীরা।
গেল মাসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত আলেক্স প্রেটি সাইকেল চালাতে ভালোবাসতেন। আর তার স্মরণে মিনিয়াপলিসের রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো সাইক্লিস্ট। একজন নিবেদিত স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবেও সবার প্রিয় ছিলেন প্রেটি। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এটি কেবল স্মরণসভা নয় বরং সরকারি নিপীড়নের বিরুদ্ধে নাগরিকদের ঐক্যের প্রমাণ।
এছাড়া, শহরটির টার্গেট নামের একটি জনপ্রিয় সুপারশপে শ্রমিকদের সুরক্ষার দাবিতে ধর্মঘট পালন করা হয়। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সান ফ্রান্সিস্কো শহরের ব্যস্ত ভ্যান নেস এভিনিউসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আইসিই ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে গাড়ির হর্ন বাজিয়ে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে চলমান বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, কোনো শহর থেকে ফেডারেল সহায়তা চাওয়া হলে, তখনই শুধু হস্তক্ষেপ করা যাবে।
এদিকে মিনেসোটা কর্মকর্তারা আইসিই অভিযানের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়ার জন্য আদালতে আবেদনে করেন। তবে এ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারক জানিয়েছেন, সরকারকে ফেডারেল আইন প্রয়োগ থেকে বিরত রাখা যৌক্তিক নয়।