স্বাধীনতার লক্ষ্যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পুলিশ, নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন হেরফ ফেজ টু’ শুরু করল বালুচিস্তানের বিদ্রোহীরা। ৩১ জানুয়ারি শনিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জানিয়েছে, তাদের হামলায় কমপক্ষে ৮০ জনেরও বেশি পাক সেনা, পুলিশ কর্মী, ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আধিকারিক নিহত হয়েছেন।
সূত্রের খবর, শনিবার একটি বিবৃতিতে বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জানিয়েছে, তারা টানা দশ ঘণ্টা পাঁচ জেলার ১২টি জায়গায় হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল সাধারণ মানুষ, একটি হাই সিকিউরিটি জেল, পুলিশ স্টেশন এবং আধাসামরিক বাহিনীর শিবির। যার জেরে ৮৪ জন পাকিস্তানি সেনা জওয়ান, পুলিশ কর্মকর্তা, ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আধিকারিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। কমপক্ষে ১৮ জনকে বন্দি করেছে তারা। পাশাপাশি সরকারি অফিস, ব্যাঙ্ক, জেল-সহ ৩০টির বেশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে তারা। ২০টিরও বেশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। বিএলএ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নারী যোদ্ধারাও হামলায় অংশ নিয়েছে। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। যা সংগঠনের প্রচার কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, যাতে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা যায়। সংগঠনের মুখপাত্র জিইয়ান্দ বেলুচ-এর নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা নুশকিতে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট-এর সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পাশাপাশি একটি ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ঘাঁটি দখল করেছে। শুধু তাই নয়, এই বিবৃতিতে পাকিস্তানি সেনাদের নিহত হওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের সরকার এই সব দাবি মানতে নারাজ। বরং তাদের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের মারার খবরই সামনে এসেছে। বালুচিস্তানের স্বঘোষিত সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, অধিকাংশ হামলাই নিরাপত্তা বাহিনী ব্যর্থ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এর আগের দিনই সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, প্রদেশের দুইটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৪১ জন বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে।পাক সেনাবাহিনীর তরফেও একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের পাল্টা হামলায় ৩৭ জন বালুচ বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বালুচ বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ভয়ঙ্কর হামলা চালায় পাক সেনাবাহিনী। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে লিখেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের তাড়া করছে। তাঁর দাবি, গত এক বছরে প্রায় ৭০০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। শনিবার ভোরে জঙ্গিরা রেললাইন ধ্বংস করায় পাকিস্তান রেলওয়ে বালুচিস্তান থেকে দেশের অন্যান্য অংশে ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। হামলার লক্ষ্য ছিল পুলিশ, জেল, আধাসামরিক বাহিনী ও সাধারণ যাত্রী। এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বালুচ প্রদেশের সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ। তিনি জানান, কোয়েটা, গাদর, মাকরান, হাব, চমন, নাসিরাবাদ এবং নুশকি-সহ একাধিক এলাকা থেকে হামলার খবর এসেছে। শনিবারই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিঘাতের প্রশংসা করেছেন। তিনি নিহত ১০ সেনা জওয়ানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, পুরো জাতি তাঁদের জন্য গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) তাদের হামলা বাড়িয়েছে। টিটিপি আলাদা সংগঠন হলেও আফগান তালিবানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যারা ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসে। দীর্ঘদিন ধরেই বালুচিস্তান পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন বালুচিস্তানের লক্ষ্যে তারা প্রতিবাদ জারি রেখেছে। পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি রাখতেই গড়ে উঠেছে বালুচ লিবারেশন আর্মি।