বিফ-কাণ্ডে জামিন পেলেন পার্ক স্ট্রিট পাবের ওয়েটার! কথা দিয়েও মামলা তোলেননি সায়ক

Spread the love

গত কয়েকদিন ধরে সোশ্য়াল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে সমাজমাধ্য়ম প্রভাবী তথা অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী! গত শনিবার পার্ক স্ট্রিট এলাকার নামী রেস্তোরাঁয় বন্ধু সুকান্ত কুণ্ডু ও অনন্যা গুহর সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন সায়ক। সেখানেই ঘটে যায় লঙ্কা কাণ্ড। মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন অভিনেতা, বদলে আসে বিফ। না জেনে সেটি খেয়েও নেন তাঁরা। এরপরই হইচই কাণ্ড। ধর্মভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্য় নিয়ে ‘ব্রাহ্মণ’ সায়ককে গো-মাতাকে খাইয়েছেন ওই বেয়ারা। এমন অভিযোগ আনেন অভিনেতা। তুমুল বচসার পর মামলা গড়ায় পুলিশ পর্যন্ত।

ওই দিন রাতেই গ্রেফতার হয়েছিলেন পাবের ওই ওয়েটার। পরদিন তাঁকে কোর্টে তোলা হলে জামিন মেলেনি, তিন দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে কাটানোর পর মঙ্গলবার জামিন পেলেন শেখ নাসিমুদ্দিন। তাঁর পরিবেশন করা খাবার ঘিরেই ঘটেছিল যাবতীয় কেলেঙ্কারি। এদিন ব্যাঙ্কশাল কোর্ট জামিন দেয় ওই বেয়ারাকে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল, অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী ফেসবুক পোস্টে রবিবার জানিয়েছিলেন,তিনি ওই ওয়েটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেবেন। কিন্তু তেমনটা অভিনেতা করেননি, জানিয়েছেন বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি।

সমাজকর্মী কোয়েলি গঙ্গোপাধ্য়ায় রীতিমতো ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘অভিযোগ থানায় এসে জানিয়েছিলেন। মামলা প্রত্য়াহারও থানায় গিয়ে করতে হয়, ফেসবুকে লিখে দিলে হয় না। এটা সায়ক চক্রবর্তী জানেন না?’

নাজিমুদ্দিনের গ্রেফতারির ঘটনায় ফুঁসে উঠেছিল কলকাতার সিংহভাগ মানুষ। সায়কের পাশে দাঁড়ায়নি তাঁর ইন্ডাস্ট্রির মানুষজনই। বরং শ্রমজীবী নাসিমুদ্দিনকে নিয়ে চিন্তা জাহির করেছে টলিউড। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় (কোনও শ্রেণি মানুষের ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত হানা) মামলা রুজু হয়েছিল ওই পানশালার বেয়ারার বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রমাণে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখেছে এই ধারায়। পালটা সায়কের বিরুদ্ধেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উস্কানির অভিযোগ করা হয়। সেই মামলা এখনও বহাল রয়েছে।

এই ঘটনার পর পার্ক স্ট্রিটের ঐতিহ্য়শালী পাবের তরফে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চাওয়া হয়। সায়কের পোস্ট করা ভিডিয়োতেও স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল, বেয়ারা এবং ম্য়ানেজার দুজনেই মাটনের বদলে গরুর মাংসের স্টেইক পরিবেশন ভুলবশত হয়ে গিয়েছে জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু মন গলেনি সায়কের।

পরে পাবের ক্ষমা বিবৃতি শেয়ার করে রবিবার সায়ক লিখেছিলেন, ‘অলি পাব ক্ষমা চেয়েছে। তাই দয়া করে আর অন্য গল্প বানাবেন না। স্ক্রিপ্ট বা ওই জাতীয় কিছুর থিওরি আমাকে অবাক করছে। রাগের মাথায় থানায় গেছিলাম, ঠিক। এই ভুলে অলি পাবের গাছাড়া ভাবে আমার মাথার ঠিক ছিলো না। আমি কোনোদিনও গোমাংস মুখে নিইনি। এবার থেকে দেখেশুনে বুঝে চলব না হয়। আমি জনগণের উপর নির্ভরশীল, তাই জনগণ যা বলবেন সেটাই ঠিক, হয়ত। ওই ভদ্রলোক আর অলি পাবের বিরুদ্ধে আমি কমপ্লেন প্রত্যাহার করছি। আমার অলি পাবের ভুল নিয়ে সমস্যা ছিল। হতে পারে আমার রিঅ্যাকশনও ভুল ছিল, আমি দুঃখিত। অভিনেতার সংযোজন, ভবিষ্যতে ভ্লগ বানানোর ক্ষেত্রে আমি এই ধরণের কন্ট্রোভার্সিতে জড়াতে চাই না। আমার হিন্দু-মুসলিমের সমস্যা নেই। আমি নিজের কিছু ‘আচার’ মেনটেইন করতে চাই শুধু। আমার ভ্লগ আর কিছু ইনস্টগ্রাম কনটেন্ট সবাইকে এক হয়ে থাকার কথা আগেও বলত, পরেও বলবে। অনিচ্ছাকৃত ঘটনার জন্য আবারও দুঃখিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *