হাসিনা আমলের পতনের পর সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ককে কি আদৌ বৈঠকের টেবিলে মুখোমুখি হবেন নরেন্দ্র মোদী ও মহম্মদ ইউনুস? এই বহুমূল্য প্রশ্ন এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক আঙিনায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাদেশের বিদেশ সচিব মহম্মদ জসীম উদ্দিন বুধবার জানিয়েছেন, তাঁরা আশাবাদী যে এই বৈঠক হবে। এদিকে, বৃহস্পতির সকালেই ব্যাঙ্ককের উদ্দেশে বিমস্টেক সম্মেলনে যোগ দিতে রওনা হয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। রওনার আগে মোদী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সফর নিয়ে বেশ কিছু মিটিংএর কথা উল্লেখ করেছেন। সেই পোস্টে কী বার্তা রয়েছে?
বৃহস্পতিবার সকালেই ব্যাঙ্ককের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। ব্যাঙ্ককের পরই শ্রীলঙ্কায় সফর করার কথা জানিয়েছেন মোদী। দুই দেশের আসন্ন বৈঠক নিয়েও তাঁর পোস্টে বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, আজই বিমস্টেকে যোগ দিতে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস।
বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাঙ্কক রওনার আগে তাঁর পোস্টে মোদী জানিয়েছেন, ‘আগামী তিন দিন, আমি থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা সফর করব এবং এই দেশগুলি এবং বিমস্টেক-ভূক্ত দেশগুলির সাথে ভারতের সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেব।’ উল্লেখযোগ্যভাবে থাইল্যান্ড সফরে তাঁর বৈঠকগুলি নিয়ে মোদী তাঁর পোস্টে লিখেছেন,’ আজ পরের দিকে ব্যাঙ্ককে, আমি প্রধানমন্ত্রী পায়েটোংটার্ন সিনাওয়াত্রার সাথে দেখা করব এবং ভারত-থাইল্যান্ডের বন্ধুত্বের পূর্ণাঙ্গ পরিসর নিয়ে আলোচনা করব। আগামিকাল, আমি বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেব এবং থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সাথেও দেখা করব।’ আরও একটি পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন,’ আমার শ্রীলঙ্কা সফর ৪ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত চলবে।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখছেন, শ্রীলঙ্কার ‘রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিশানায়েকের ভারত সফরের পর এই সফর। আমরা বহুমুখী ভারত-শ্রীলঙ্কা বন্ধুত্বের বিষয়ে পর্যালোচনা করব এবং সহযোগিতার নতুন পথ নিয়ে আলোচনা করব। আমি সেখানে বিভিন্ন বৈঠকের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ প্রসঙ্গত, ব্যাঙ্কক রওনার আগে মোদীর বৃহস্পতিবার সকালের এই দুই পোস্টে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই।
এদিকে, বুধবার বাংলাদেশের বিদেশ সচিব জসিমউদ্দিন জানিয়েছেন, ঢাকার তরফে মোদীর সঙ্গে ইউনুসের বৈঠকের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন,’আমরা অবশ্যই আশা রাখছি, এই বৈঠক হবে।’ উল্লেখ্য, সদ্য চিন থেকে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে চিনের রাষ্ট্রপ্রধান জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ভারতের উত্তর পূর্বের ৭ রাজ্য নিয়ে ইউনুসকে একটি মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে। এদিকে, কিছুদিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের তরফে ইদের শুভেচ্ছা বার্তায় সেদেশে যাওয়ারও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে। এমন এক প্রেক্ষাপটে ব্যাঙ্ককে মোদী-ইউনুস বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।