বিয়ে না করে হন গর্ভবতী! ‘ছেলেরা বিয়ে করতে এখনও খোঁজে কুমারী মেয়ে…’

Spread the love

নীনা গুপ্তা সমাজের যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখেন, সে সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বলেন। তিনি মনে করেন যে, মানুষ মুখে যতই বলুক না কেন, ভারত কিছু জিনিস একেবারেই পরিবর্তিত হয়নি। নীনা উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, আজও একজন নারীর ‘ভার্জিনিটি’ পুরুষদের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। তিনি তাঁর আশেপাশের বেশ কয়েকটি উদাহরণও উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে বিয়ের পরে নারীদের উপর অদ্ভুত সব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যেমন সাই বাবার পূজা না করা বা শোওয়ার ঘরে পরিবারের ছবি না রাখা!

নারীদের বিয়ে করার সময় পুরুষরা কী খোঁজে?

শুভঙ্কর মিশ্রের পডকাস্টে এসেছিলেন নীনা গুপ্তা। এখানে, তাঁরা পুরুষরা বিয়ে করার সময় কী খোঁজে তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। নীনার জবাব ছিল, ছেলেরা চায় একজন মেয়ে পরিবারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে, তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখবে এবং অবশ্যই ওই মেয়েকে কুমারী হতে হবে, অর্থাৎ ভার্জিন। যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এটি এখনও ঘটে কিনা, নীনার উত্তর ছিল, ‘এখন কী পরিবর্তন হয়েছে? কোন জায়গার কথা বলছেন আপনি? ভারতের কথাই বলছেন, তাই না?’

নীনাকে তখন বলা হয়, বর্তমানে তো সবকিছু অনেক খোলামেলা হয়ে গিয়েছে! তাতে বিষ্মিত হওয়ার অভিনয় করে নীনার জবাব ছিল, ‘কে বলেছে খোলামেলা? তুমি কোন ভারতের কথা বলছো? এখানে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। আমরা এখনও মাথায় ঘোমটা দিয়ে সকালে শ্বশুরের পা স্পর্শ করি। আমরা যারা ভালো ভালো পোশাক পরি, যা ইচ্ছে বলি, সেটা আসল ভারত নয়।’

বাস্তব থেকে উদাহরণ টানলেন নীনা

এরপর নিজের দেখা কিছু উদাহরণই টেনে আনেন তিনি। বলেন, ‘আমি এসব দেখেছি। আমার বাবার পক্ষের একজন আত্মীয় ছিলেন। সেই মেয়েটির বিয়ে মুম্বইয়ের এক ছেলের সঙ্গে হয়েছিল। আমার বাবা একবার ছেলে, মেয়ে এবং তাদের পরিবারকে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কারণ মেয়েটি তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে থাকতে অস্বীকার করেছিল। মেয়েটি সাই বাবার পূজা করত এবং নিজের ঘরে তাঁর ছবি রেখেছিল। কিন্তু শাশুড়ি চেয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর ঘরে সাইবাবার নয়, বরং ওই পরিবার যে গুরুদেবের পুজো করে, তার ছবিই রাখতে হবে।’

আরও একটি উদাহরণ দিয়ে নীনা বলেন, ‘আমার ভাগ্নীর শাশুড়ি বলেন যে বিছানার পাশের সাইড টেবিলে, পরিবারের ছবি নাকি রাখা যায় না…আমাদের এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।’!

নিজের ব্যক্তিগত জীবনেও কম কটাক্ষে পড়েননি নীনা। ভিভিয়ান রিচার্ডের প্রেমে পড়েছিলেন। খুব অল্প দিনেই সম্পর্ক গভীরতা পায়। নীনার গর্ভে আসে প্রথম সন্তান। কিন্তু তত দিনে বিবাহিত ভিভ ফিরে গিয়েছেন নিজের দেশে। স্ত্রী ও পরিবার ছাড়তে চাননি। তবে গর্ভপাত করাননি নীনা। একা মা হয়ে জন্ম দেন সন্তানের। ১৯৮৯ সাল তখন, সেই সময় নীনার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কম কাদা ছোড়াছুড়ি হয়নি। ২০০৮ সালে নীনা বিয়ে করেন বিবেক মেহরাকে। ২০২৩ সালে নীনা-কন্যা মাসাবার বিয়ের সময় এসেছিলেন ভিভ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *