মধ্যরাতে বিরলতম ঘটনার সাক্ষী থাকল সংসদ। লোকসভায় রাত দুটোর সময় পাশ হল মণিপুর প্রস্তাব। বিরোধী শিবিরের প্রথম সারির নেতাদের অনুপস্থিতিতে প্রায় ফাঁকা মাঠে প্রস্তাবটি পাশ করিয়ে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বুধবার গভীর রাতে বিরোধীরা দাবি তোলেন মণিপুরে নিয়ে আলোচনার। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীরা কড়া ভাষায় আক্রমণও করেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। তার সাফাইও দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী পাশ হয় রাত ১টা ৫৭ মিনিটে। এরপর অধিবেশন মুলতুবি না করে স্পিকার ওম বিড়লা জানান এবার মণিপুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, কোথাও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে দু’মাসের মধ্যে সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে গত ফেব্রুয়ারিতে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং। তারপরে জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন।তারপর সে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসণের সেই প্রস্তাবই বুধবার মধ্যরাতে সংসদে পেশ করা হয় সরকারের তরফে। এবং সেটা পাশও হয়ে যায়। যদিও প্রস্তাব নিয়ে সীমিত সময় আলোচনার সময় কড়া ভাষায় সরকারকে নিশানা করে বিরোধীরা।
কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, ‘মণিপুরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সময়েও সেখানে প্রধানমন্ত্রী একবারও যাননি।’ ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি বলেন, ‘সরকার যে মণিপুরকে একেবারেই গুরুত্ব দেয় না, সেটা বোঝা যাচ্ছে, এই মধ্যরাতে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ায়।’ অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, ‘সারা বিশ্ব যখন মণিপুর নিয়ে উত্তাল, যখন মহিলাদের উলঙ্গ করে হাঁটানো হচ্ছে, তখনও প্রধানমন্ত্রীর কোনও তাপ-উত্তাপ দেখা যায়নি।’ এরপরেই বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘মণিপুরে শান্তি ফেরানোর জন্য যা যা করণীয় করা হচ্ছে। দুই জাতির সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুর। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল। নিছক রাজনীতি করার জন্যই বিরোধীরা মণিপুর প্রসঙ্গ তুলছে।’ অমিত শাহর ভাষণের পর মণিপুর প্রস্তাবও পাশ হয়ে যায়। অবশেষে বিরোধী ও সরকার পক্ষের বাদানুবাদের পরে রাত ২টো ৪১ নাগাদ লোকসভা মুলতুবি হয়।