ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রেতাদের গণপ্রহার! গীতাপাঠ নিয়ে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

Spread the love

‘এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।’ গীতাপাঠের ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রতাদের বেধড়ক মারধরের ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে রাজ্যে সড়ক পরিকাঠামোয় আরও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে রিমোট টিপে পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ পর্বে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তার কাজের সূচনা করেন মুখমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের সভা থেকে ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রেতাদের মারধরের ঘটনায় সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে ব্রিগেডে মারধরের ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্যাটিস বিক্রেতাদের মারধর করা হয়েছে। কাল সবকটাকে গ্রেফতার করেছি। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।’ এরপরেই ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ কর্মসূচিকে বিঁধে তিনি বলেন, ‘গীতাপাঠ আমরা সবাই করি। তার জন্য পাবলিক মিটিং করার কী আছে?’ তাঁর বক্তব্য, ধর্মাচারণ ব্যক্তিগত, তা রাজনৈতিক প্রদর্শনের বিষয় হওয়া উচিত নয়। এদিনের সভা থেকে ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়েও পরিষ্কার অবস্থান জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় এনআরসি হবে না, ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। মনে রাখবেন, আমি ভোট চাইতে আসিনি। নিশ্চিন্তে থাকুন, কাউকে তাড়াতে দেব না। সবাইকে স-সম্মানেই রক্ষা করব।’

এদিন সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইলেকশন এখনও ডিক্লেয়ার হয়নি। তুমি ডিএমদের ভয় দেখাচ্ছো কেন? মানুষকে বন্ডেড লেবার বানাতে চাইছো। আমরা তো বলেছিলাম, সময় নিয়ে এসআইআর করো, তাড়াহুড়ো কেন? হোয়াই সো হাঙ্গরি? ভোটের জন্য। এরপরই বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর কড়া মন্তব্য, ‘ভাল করে মনে রাখবেন, সুস্থ বাঘের চেয়ে আহত বাঘ অনেক ভয়ঙ্কর।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তাঁর কানে খবর এসেছে, যাঁরা ঠাকুরদা–ঠাকুমার নাম প্রমাণ হিসেবে দিয়েছেন, তাঁদের নাকি হেয়ারিংয়ে ডেকে নাম বাতিল করা হতে পারে। তাঁর কটাক্ষ, ‘এরা ভোট করছে লুট, আর বলছে ঝুট।’ এখানেই না থেমে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘বিজেপির আইটি সেল ভোটার লিস্ট তৈরি করে দেবে, সেই লিস্ট ধরে ভোট করবেন? এটাই ইচ্ছা তো। বিহারে যা করেছেন, বাংলায় হবে না। এজেন্সি দিয়েও নয়। ওদের আপনারা বাধ্য করেছেন বিজেপিতে পরিণত করতে। এটা দেশের পক্ষে ভাল নয়। মনে রাখবেন, মানুষ সরকার নির্বাচিত করে, ইলেকশন কমিশন নয়।’ এরপরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন। তাঁর চোখ দুটো ভয়ঙ্কর। দেখলেই মনে হয়, দুর্যোগ। ওর এক চোখে দুযোর্ধন আর এক চোখে দুঃশাসন।’ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যতই ভাল কাজ করি, কেন্দ্র টাকা আটকে দেয়। মণীষীদের অপমান করে। আসলে এরা বাংলাবিদ্বেষী।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *