ব্রিটিশদের তাড়াতে বন্দে মাতরম গাওয়া হত! তখন আপনার পূর্বপূরুষরা কোথায় ছিলেন?

Spread the love

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অভিযোগ করেন যে বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করেছিলেন মহম্মদ আলি জিন্না। আর সেটা মেনে নিয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু। আর তা নিয়ে পালটা প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, মোদী এমনভাবে কথা বলছিলেন, যেন মনে হচ্ছিল তাঁর রাজনৈতিক পূর্বপুরুষরা ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। বন্দে মাতরম গাওয়া হত ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনে। আর সেইসময় বিজেপির পূর্বপুরুষরা বিরোধিতা করতেন বলে দাবি করেন কংগ্রেস নেতা।

তাঁর কথায়, ‘আপনি ১৯৩৭ সালের কথা বলছেন। কিন্তু আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে আপনার রাজনৈতিক পূর্বপুরুষরা কোথায় ছিলেন?’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি কোন দেশপ্রেমের কথা বলছেন? মুসলিম লিগ বন্দে মাতরম পুরোপুরি বয়কটের দাবি জানিয়েছিল। আমাদের নেতা মৌলানা আবুল কালাম আজাদ সাহেব বলেছিলেন – বন্দে মাতরম নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। এটাই আমাদের মৌলানা আজাদ ও মুসলিম লিগের মধ্যে পার্থক্য। সেই সময় হিন্দু মহাসভাও বন্দে মাতরমের সমালোচনা করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছি। তাঁর দুটি উদ্দেশ্য ছিল। তাদের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল বোঝানো যে আপনার রাজনৈতিক পূর্বপুরুষরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তাঁর দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল এই আলোচনাকে রাজনৈতিক রং দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিটি ভাষণে বারবার কংগ্রেস এবং জওহরলাল নেহরুর কথা উল্লেখ করেন। এর আগে সংসদে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ১৪ বার নেহরুর নাম এবং কংগ্রেসের নাম ৫০ বার উচ্চারণ করেছিলেন।’

সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি যতই চেষ্টা করুন, আপনি তাঁদের অবদানে একটি কালো দাগও রাখতে পারবেন না। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে কংগ্রেস নেতা বলেন, ’কংগ্রেস তাদের একটি সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে যেখানেই কোনও অনুষ্ঠান হবে, আমরা বন্দে মাতরম গাইব। মুসলিম লিগ ও হিন্দু মহাসভা এর বিরোধিতা করেছিল এবং কংগ্রেসের সমালোচনা করেছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *