ঔপনিবেশিকতার বেড়াজাল ভেঙে দিলেন। পালটে গেল রাজভবনের নাম। যে কাজটার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই তদ্বির করে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এবার তাতে কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন দিয়ে দিলেন। ফলে রাজ্যপালের নাম পালটে হয়ে গেল ‘জনভবন’।
তারপর ‘জনভবন’-র তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৩ সালের ২৭ মার্চ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সিভি আনন্দ বোসের অনুরোধে তৎকালীন রাজভবনের প্রতীকী চাবি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তেই সূচনা হয় মানুষের রাজভবন – জন রাজভবনের একটি নতুন অধ্যায়।’
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জন রাজভবনের ধারণার পিছনে ছিল মানুষকে রাজভবনের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা—মানুষের আশা-স্বপ্ন, সমস্যাবলী ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবনটিকে জীবন্ত করে তোলা। এর মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ভয়ের প্রতীক না থেকে সকলের জন্য উন্মুক্ত ও মানবিক হোক—এই ছিল মূল উদ্দেশ্য। গত তিন বছরে জন রাজভবন মানুষের জন্য বহু সৃজনশীল এবং কল্যাণমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এর অন্যতম ভিত্তি ছি— মানুষের প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’
সেইসঙ্গে রাজভবনের তরফে বলা হয়েছে, ‘রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে হিংসা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে জন রাজভবন মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রূপান্তরমুখী নেতৃত্বে দেশের মানুষ আজ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে উন্নয়নমুখী জাতি গঠনের পথে—বিকশিত ভারতের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রায়। এই ভাবনা অনুসারেই ২৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেশের সকল রাজভবন ও রাজনিবাসের নাম যথাক্রমে লোক ভবন ও লোকনিবাস করা হয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজভবন এবং তার অধীনস্থ সকল ভবন এখন থেকে সর্বজনীনভাবে লোক ভবন নামে পরিচিত হবে।’
