নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর আজ চাকরি গেল। আর তা নিয়ে সরগরম হয়ে যায় রাজ্য–রাজনীতি। এই রায়ের পর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, এমনই রায় হওয়াই উচিত। তাহলে সমাজ থেকে দুর্নীতি মুক্ত হবে। আর এই সূত্র ধরেই এবার সিপিএমের বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও যোগ্য–অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব হয়নি। সেখানে আজ এই রায়ের পর শিক্ষকমহলে হাহাকার পড়ে গিয়েছে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকেও আক্রমণ করেছেন তিনি। এই রায়ের নেপথ্যে সিপিএম–বিজেপির খেলা আছে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিকাশবাবু কেস করেছিলেন। তাঁর জন্যই আজ এতগুলি চাকরি গেল। উনি তো বিশ্বের বৃহত্তম আইনজীবী। কেন যে এখনও নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন না জানি না। আমি ভাবছি, একটা রেকমেন্ডেশন করব।’
অন্যদিকে ২০১৬ এসএসসির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অযোগ্যদের চাকরি বাতিলের দাবিতে আদালতে সওয়াল করেছিলেন বিকাশবাবু। ওই মামলায় ২০২৪ সালে পুরো প্যানেলটাই বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টও কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘শুধু ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হল বললে ভুল হবে। কারণ, এঁদের সঙ্গে কয়েক লক্ষ পরিবার জড়িত। মনে রাখবেন, তাঁরা অচল হয়ে গেলে বিজেপি–সিপিএমও সচল থাকবে না। কোনও ঘটনা ঘটলে, দায়িত্ব আপনাদের হবে। আর এসবের জবাব আপনারা পাবেন।’
এছাড়া বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকেও ২৬ হাজার চাকরি বাতিল ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন। তারই জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এতগুলি মানুষের চাকরি যাওয়ার পর বিজেপির মন্ত্রী সুকান্তবাবু বলছেন, অযোগ্যদের জন্য যোগ্যদের চাকরি গিয়েছে। এর জন্য আমি নাকি দায়ী! তো যখন আপনারা প্রথম কেস করলেন, তখন একবারও ভাবলেন না কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য? সেটা তো সরকারকে ভাবতেও দিলেন না। আপনারা নিজেরা যোগ্য তো? সব সময়ে বাংলাকে কেন টার্গেট করা হবে? আমার তো এখনও এক লক্ষ পদ ফাঁকা রয়েছে। শুধু এই কেসটার জন্য আমরা করতে পারছিলাম না। যেহেতু এটা বিচারাধীন ছিল। আগে এর উত্তর সামনে আসুক।’