ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য নির্ধারিত বৈঠক পেছানো হয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী আরোপিত শুল্ক বাতিল করার পর ওয়াশিংটনে প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা পিছিয়েছে ভারত।ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেয়া রায়ে আদালত বলেছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি একটি আইনের আওতায় ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক হারে আমদানি পণ্যে শুল্ক বসিয়েছিলেন, তা আইনসঙ্গত নয়।
রায় জানার পর ট্রাম্প এটাকে ‘অপমানজনক’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তার কাছে বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর দেশটিতে শুল্ক ঘিরে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনা পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।
দুই দেশের প্রধান বাণিজ্য আলোচকরা নেতৃত্বাধীন দলের মধ্যে তিন দিনের বৈঠক সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতীয় দলের ওয়াশিংটন সফর এবং চূড়ান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ সুপ্রিম কোর্টের রায় বিশ্লেষণের পর অনুষ্ঠিত হবে। উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক নতুন তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে।
রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনায় ভারতের কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন। সেই শুল্ক কমানোর বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করতে এ সফরের পরিকল্পনা করা হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা ছিল। বিপরীতে ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্য কিনতে রাজি হয়। এসব পণ্যের মধ্যে জ্বালানি, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু ও প্রযুক্তিপণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই অন্তর্বর্তী চুক্তি স্থগিত করার জন্য আগেই দাবি জানিয়েছে। আদালতের রায়ের আগে চুক্তির সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ বিবৃতি দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
গত শনিবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় ও দেশটির পরবর্তী ঘোষণাগুলোর প্রভাব খতিয়ে দেখছে। গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, প্রতিনিধিদলের ওয়াশিংটন সফরের মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান হলে আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যকর হতে পারে।