ভিটামিন ডি বেশি খেলে কী হয় জানেন?

Spread the love

সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর অন্যতম উৎস। শরীরের জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ডি। এর পর্যাপ্ত মাত্রা শরীরে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস শোষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর অভাব যে কোনো বয়সের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সমস্যা। কিন্তু এই ভিটামিনের মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলেই বিপদ! হৃদরোগ বা ক্যানসারের মতো সমস্যাও ডেকে আনতে পারে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি। তাহলে কী করবেন?

শরীরের ভিটামিন ডি- এর অত্যধিক ঘাটতি দেখা দিলে অনেকেই ভরসা রাখেন ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের ওপর। ওষুধ হিসেবে ভিটামিন ডি নিরাপদ। কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন, তাই বলে অনেক পরিমাণে এটা খাওয়া ঠিক না। চিকিৎসক যতটুকু খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন তার থেকে বেশি মাত্রায় ভিটামিন ডি খেলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
 


ভিটামিন ডি বেশি খেলে কি হয় জেনে নিন-


শরীরে ভিটামিন ডি-র পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে তার বিষক্রিয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কিন্তু কী করে বুঝবেন ভিটামিন ডি-র কারণে বিষক্রিয়া হচ্ছে কি না? আসুন জেনে নেই-
 


‘হেলথলাইন’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি মিলিলিটার রক্তে ১৫০ ন্যানোগ্রাম ভিটামিন ডি থাকতে পারে। তার বেশি হলেই বিষক্রিয়া হয়।



ভিটামিন ডি বেশি খেলে ক্ষতিকারক লক্ষণগুলো হলো-

পেটে ব্যথা

বমি

ক্লান্তি

প্রচণ্ড পিপাসা পাওয়া


তাছাড়া আরও রয়েছে-


হাইপারক্যালসেমিয়া: খনিজ হিসেবে শরীরে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি করে হাড় সুস্থ রাখে। তবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর অতিরিক্ত ব্যবহার রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যাকে বলে হাইপারক্যালসেমিয়া। সাধারণত শরীরে ক্যালসিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা ৮ দশমিক ৫-১০ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম। স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে বমি বমি ভাব, বমি, দুর্বলতার মতো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।


হাড়ে যন্ত্রণা: ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় দৃঢ় এবং শক্তিশালী করে। এর অভাবে তাই হাড়ের যন্ত্রণা হতে পারে। তবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর উচ্চ মাত্রার কারণে রক্তে এই ভিটামিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে হাড়ের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি শুরু হয়। এই কারণে হাড়ের যন্ত্রণা বা হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।


কিডনির সমস্যা: মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন-ডি মূলত কিডনি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ভিটামিন-ডি এর কারণে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বারবার প্রস্রাব পাওয়া কিংবা কিডনিতে পাথর হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যারা ইতোমধ্যেই কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন-ডি গ্রহণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

কারো শরীরে যদি ভিটামিন ডি-র অভাব থাকে, সেক্ষেত্রে কতটা পরিমাণ ভিটামিন ডি খাওয়া দরকার সে বিষয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ডি, বিশেষ করে কোলেক্যালসিফেরল রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত ভিটামিন ডি খেলে এই লক্ষণগুলোর দিকে নজর রাখতে বলছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *