দাবি উঠছিল বহুদিন ধরেই। অবশেষে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেরলের নাম ইংরেজি রূপ থেকে মালয়ালম উচ্চারণ-ভিত্তিক ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। কেরল বিধানসভায় রাজ্যের নাম পরিবর্তনের সপক্ষে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাস হয়ে গিয়েছে। এবার দিল্লির দরবারেও ভোটমুখী রাজ্যের নাম পরিবর্তনে সায় মিলতে, তা পিনারাই বিজয়ন সরকারের সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে যেমন, আবার বিজেপিও তার ডিভিডেন্ড ঘরে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে কেরলের নাম পরিবর্তন হলেও পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব এখনও কেন্দ্রের সবুজ সঙ্কেত পায়নি।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন দফতর সেবা তীর্থে বসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সাউথ ব্লকের বৈঠকের পর আজই প্রথম ‘সেবা তীর্থে’ এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানেই কেরল রাজ্য বিধানসভার পাঠানো ‘কেরলম’ নামকরণের প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, পিনারাই বিজয়ন সরকারের প্রস্তাবে সায় দিয়ে কেরলের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার পক্ষে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু একটা নামের পরিবর্তন নয়, বরং দক্ষিণ ভারতের এই সবুজ রাজ্যের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও জোরালোভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার একটা পদক্ষেপ। বলে রাখা ভালো, ২০২৪ সালে কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করতে বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন। সংবিধানের অষ্টম তফসিল-সহ সমস্ত ভাষাতেই কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করার সপক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সেই সময় কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পর ২০২৪ সালের ২৫ জুন দ্বিতীয় বারের জন্য কেরল বিধানসভায় রাজ্যের নাম পরিবর্তনের সেই প্রস্তাব পাস হয়। বিজয়ন জানিয়েছেন, মালয়ালম ভাষায় রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ই। মালয়ালম ভাষী কেরলের সমস্ত নাগরিকদের এক সুতোয় বাঁধতেই নাম পরিবর্তন জরুরি। ঐক্যবদ্ধ ‘কেরলম’ গঠনের দাবি আজকের নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই ওই দাবি উঠছিল বলে জানান তিনি। সেই দাবি মেনেই কেন্দ্র কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করায় সায় দিয়েছে। ২০২৩ সালেও কেরল বিধানসভায় রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় কেন্দ্রের অনুমোদন মেলেনি। ১৯২০ সাল নাগাদ ‘ঐক্য কেরলম’ আন্দোলনের সূচনা দক্ষিণের রাজ্যটিতে। মালয়ালম ভাষী মানুষকে সামনে রেখে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি ওঠে। ১৯৫৬ সালে মালয়ালম ভাষীদের রাজ্য শেষ পর্যন্ত গড়ে ওঠে যদিও। কিন্তু মালয়ালম ভাষায় ‘কেরলমে’র পরিবর্তে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে রাজ্যের নাম হিসেবে জায়গা পায় কেরলই।কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর এটি সংসদে পেশ হবে এবং সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে। কারণ, কেরলে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই সে রাজ্যের মালয়ালি অস্মিতায় শান দিতে চলেছে কেন্দ্র, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটের আগে কেরলের নাম পাল্টে সরকার এবং বিরোধী দুপক্ষই ফায়দা তুলতে পারে ভোটে। মালয়ালি আবেগকে অস্ত্র করে বাম-বিজেপি সকলেই নামতে পারে প্রচারে। তবে মালয়ালম ভাষায় রাজ্যের নাম বরাবরই কেরলম ছিল। কিন্তু সংবিধানের প্রথম তফসিলে ‘কেরল’ শব্দটির উল্লেখ রয়েছে।
